Tuesday, October 1, 2019

নিটিং প্রোডাকশন ক্যালকুলেশন: সহজে মনে রাখা যায় যেভাবে

ফেব্রুয়ারিতে ইন্টার্নি করছিলাম সাভারের একটা ইন্ডাস্ট্রিতে। মেজর সাবজেক্ট ওয়েট প্রসেসিং হওয়ায় প্রথম এক সপ্তাহ ব্যাচ সেকশন-ল্যাব-ড্যায়িং ফ্লোরে ছিলাম। অর্থাৎ, মেজরের প্রায়োরিটি আগে। এরপর গিয়েছিলাম নিটিং সেকশনে। যদিও ফ্লাইং ডাস্টের কারণে সেখানে ঘোরাফেরা করা মুশকিল, অর্থাৎ ভদ্রবেশে সেখানে যাওয়া খানিকটা বোকামি। যাবেন ভদ্রবেশে, আসবেন পাগল হয়ে, সারা গায়ে-মাথায় ডাস্ট নিয়ে। তো যাইহোক, লেখার উদ্দেশ্য সেসব নিয়ে আলোচনা করা নয়। উদ্দেশ্য হচ্ছে নিটিং-এর প্রোডাকশন বের করা যায় কীভাবে?

বলতে পারেন যে, নিটিং-এর প্রোডাকশন বের করার সূত্র তো বইতে দেয়া আছে। আমি নিজেও জানি বইতে ফর্মুলা দেয়া আছে এবং আমরা সেটা খানিকটা না বুঝে মুখস্ত করে ফেলি। সূত্রটি প্রথম দেখায় আপনার মনে ভালোলাগার অনুভূতি তৈরী করবে না সেটা আমি নির্দ্বিধায় বলে দিতে পারি। আবার না বুঝে মুখস্ত করার কারণে একসময় দেখা যাবে সেটি ভুলেও যাবেন। অথচ আপনি যদি সূত্রটি একবার বুঝে নিতে পারেন, সেটা হয়ে যাবে পানির মত সোজা এবং যেকোনো সময় আপনি সূত্র মুখস্ত করা ছাড়াই প্রোডাকশন বের করে ফেলতে পারবেন। আমার লেখার উদ্দেশ্যই হচ্ছে এই আপাতদৃষ্টিতে জটিলরূপী সরল সূত্রকে প্রকৃত সরল করে দেয়া। সুতরাং, শুরু করা যাক।

আমি সোজা বইয়ের সূত্রকে বিশ্লেষণ না করে বরং চেষ্টা করবো ধাপে ধাপে সূত্রে পৌঁছাতে।

ধরা যাক, সার্কুলার নিটিং মেশিনের প্রোডাকশন বের করতে হবে প্রতি ঘন্টায়। তো সার্কুলার নিটিং মেশিন ঘুরতে থাকে এবং লুপ তৈরীর মাধ্যমে ফেব্রিক তৈরী হয়। কাজেই প্রথমে একবার ঘুরে আসলে প্রোডাকশন কত হবে?

প্রথমে একটি ইয়ার্ন নিয়ে হিসেবে করা যাক। একবার মেশিন ঘুরলে একটি ইয়ার্নে N (= ПDG) সংখ্যক লুপ তৈরী হয় যাদের লুপের দৈর্ঘ্য (Stitch length) S মিমি.। সুতরাং মেশিন একবার ঘুরলে (N×S) মিমি. দৈর্ঘ্যের একটি কোর্স (Course) তৈরী হবে। এখন মেশিনে একটি ইয়ার্ন অবশ্যই নেই। প্রতিবার ঘোরার ফলে মেশিনে যতগুলো ফিডার (F = MD, M= Multiple number) আছে ততগুলো কোর্স তৈরী হয়। অর্থাৎ, একবার ঘুরলে (N×S×F) মিমি. দৈর্ঘ্যের ইয়ার্নের ফেব্রিক তৈরী হয়।

এবার মেশিনের একটা নির্দিষ্ট RPM আছে। RPM মানে Revolution per minute, অর্থাৎ প্রতি মিনিটে মেশিন যতবার ঘোরে। সেক্ষেত্রে মেশিন একবার ঘুরলে যদি NSF মিমি. দৈর্ঘ্যের ইয়ার্নের ফেব্রিক পাওয়া যায়, তাহলে প্রতি মিনিটে পাওয়া যাবে (RPM×N×S×F) মিমি. দৈর্ঘ্যের ফেব্রিক। প্রতি মিনিটে পাওয়া গেলে অবশ্যই এবার ৬০ দিয়ে গুণ করে প্রতি ঘন্টা এবং ৮ (বা ১২) দিয়ে গুণ করে প্রতি শিফটের প্রোডাকশন বের করা যাবে। আবার যেহেতু এখানে দৈর্ঘ্য মিলিমিটারে, কাজেই ১০০০ দিয়ে ভাগ করে মিটারে কনভার্ট করা যাচ্ছে সহজে।
কিন্তু ইন্ডাস্ট্রিতে সাধারণত প্রোডাকশন হিসেব করা হয় কেজিতে (KG)। কাজেই আমাদের এই মিটারকে কেজিতে কনভার্ট করা লাগবে। অসম্ভব লাগছে নাকি? দৈর্ঘ্যের একক মিটার আর ভরের একক কেজি, আবার দুইটিই আলাদা রাশি। তাহলে এটা কীভাবে সম্ভব?

এখানেই আমাদের লাগবে ইয়ার্ন কাউন্ট (Count)। কটনের ক্ষেত্রে Indirect count হিসেব করা হয়। তো Indirect count এর অর্থ 840 গজের (Yard) এক পাউন্ড (lb) ওজনের যতগুলো হ্যাংক তৈরী করা যায়। অর্থাৎ ফর্মুলা মতে,

এবার আমাদের কাজ হবে মিটারকে ইয়ার্ডে কনভার্ট করা।
1 Yd   = 3 feet
        = 36 inch             (As 1 foot = 12 inch)
        = 36×2.54 cm         (As 1 inch = 2.54 cm)
        = (36×2.54)/100 m   (As 1 m = 100 cm)
Or 1 m = 100/(36×2.54) yd

সুতরাং, আমাদের সূত্রকে এবার একটু লিখে ফেলার দরকার আছে।
এবার কাউন্টের সূত্রের সাহায্যে এইসূত্র থেকে প্রোডাকশনকে ভরে কনভার্ট করা সহজ হয়ে গেলো। অর্থাৎ,

এখন আমরা জানি 1 KG = 2.2046 lb, সুতরাং, 2.2046 দিয়ে পূর্বের ফর্মূলা-কে ভাগ করলেই কেজি-তে প্রোডাকশন পাওয়া যাবে।


এবং সর্বশেষ এফিসিয়েন্সি গুণ করলেই প্রতি শিফটের প্রকৃত প্রোডাকশন বের হয়ে যাবে,

এটাই আমাদের সেই কাংক্ষিত প্রোডাকশন ফর্মুলা। এবার আবার একটু রিভিউ করা যাক

প্রথম স্টেপে একবার রেভোলিউশনের কারণে একটি কোর্সের হিসেব করতে হবে, এরপর সবগুলো কোর্সের হিসেব।
পরের স্টেপে প্রতি মিনিটের হিসেব। সেখান থেকে প্রতি ঘন্টা এবং প্রতি শিফট (এভাবে চাইলে প্রতি সপ্তাহ, মাস, বছর)
এরপরের স্টেপ থেকে শুধু কনভার্সন। মিলিমিটার থেকে মিটার, মিটার থেকে ইয়ার্ড, ইয়ার্ড থেকে কাউন্টের ফর্মূলা দিয়ে পাউন্ড, পাউন্ড থেকে কেজি।
...
BSc in Textile Engineering
Khulna University of Engineering & Technology (KUET)
Share:

Wednesday, August 21, 2019

প্রথম থার্মোপ্লাস্টিক পদার্থ!!!

থার্মোপ্লাস্টিক (Thermoplastic) বস্তু বা পলিমারের উদাহরণ দিতে গেলে প্রথমেই কিছু নিত্যব্যবহার্য বস্তুসমূহের কথা আমাদের সামনে চলে আসে, যেমন পলিথিন, পলিএস্টার, নাইলন ইত্যাদি। এই পলিমারগুলো আমাদের প্রতিদিনকার জীবনের একটি অন্যতম ব্যবহার্য হিসেবে পরিচিত। যদিও এরা বায়োডিগ্রেডেবল না, বরং পরিবেশের সমূহ ক্ষতি করছে এবং বর্তমান প্রকৃতি ও পরিবেশের জন্য এটি মারাত্মক হূমকিস্বরূপ। পরিবেশ আন্দোলনকারীদের এখন আন্দোলনের মুখ্য বিষয়ই হচ্ছে পলিথিন, পলিএস্টারের ব্যবহার কমিয়ে আনা। সে যাইহোক, লেখার মুখ্য বিষয় সেটি নয়।

বেশিরভাগ মানুষ থার্মোপ্লাস্টিক পলিমার হিসেবে পলিথিন, পলিএস্টারকে চিনলেও প্রথম থার্মোপ্লাস্টিক পলিমার হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয় যে বস্তুটিকে, তার নাম সেলুলয়েড। ব্যাপারটা খানিকটা মজার এবং একই সাথে অবাক করাও বটে যে, প্রথম থার্মোপ্লাস্টিক পলিমারই তৈরী করা হয়েছিলো সেলুলোজের ডেরিভেটিভ থেকে। যদিও সেলুলয়েড নামকরণ করা হয়েছে বেশ পরে। এই নামটি ব্যবহার করা হতো থার্মোপ্লাস্টিক সেলুলোজিক পলিমার সহ আরো বেশ কিছু থার্মোপ্লাস্টিক পলিমারের সাধারণ নাম হিসেবে। কাজেই এটুকু নিশ্চিত যে থার্মোপ্লাস্টিক পলিমারের শুরুটা ছিলো সেলুলোজ (Natural Source) ডেরিভেটিভ থেকে। কিভাবে তৈরী হলো বা কে করলো সে সম্পর্কে কিছু জানা যাক।

সেলুলয়েড মূলত একপ্রকার সমসত্ত্ব কলয়ডীয় মিশ্রণ (Colloidal Dispersion), অর্থাৎ সেলুলোজ এবং কলয়েড নাম দুটি মিলে হলো সেলুলয়েড। এই কলয়ডীয় মিশ্রণ তৈরী করা হয়েছিলো নাইট্রো-সেলুলোজ এবং ক্যাম্ফোর (Camphor) নামক পদার্থ দিয়ে। নাইট্রো-সেলুলোজ মূলত কটন এবং উড সেলুলোজের নাইট্রিক এস্টার। এটি অনেক দাহ্য একটি পদার্থ। কাজেই সেলুলয়েডের মধ্যেও এই গুণটি (কিংবা দোষ) আছে।

সেলুলয়েডের ইতিহাস ঘাটতে গিয়ে এর আবিষ্কার হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে ইংরেজ রসায়নবিদ অ্যালেকজান্ডার পার্কস (Alexander Parkes) কে, যিনি ১৮৫৬ সালে বেশ কিছু প্লাস্টিক পদার্থ তৈরী করে তার পেটেন্ট নেন। এইসব প্লাস্টিক পদার্থকে তিনি নাম দেন পারকেসিন (Parkesine)। তিনি পারকেসিন তৈরী করেছিলেন নাইট্রো-সেলুলোজ থেকে। প্রথমে নাইট্রো-সেলুলোজকে তিনি এ্যালকোহল বা উড ন্যাপথা-র দ্রবণে দ্রবীভূত করেন এবং পরবর্তীতে এই দ্রবণকে মিশ্রিত করেন প্লাস্টিসাইজার (যেমন উদ্ভিজ্জ তেল) অথবা ক্যাম্ফোর এর সাথে।

পারকেসিনের আবিষ্কারের পর আস্তে আস্তে আরো নানাধরণের প্লাস্টিক পদার্থের আবিষ্কার হলো। যেমন, পরবর্তীতে এলো জাইলোনাইট (Xylonite) নামক প্লাস্টিক যা পারকেসিনের থেকেও সুদৃড় ছিলো। এভাবে প্লাস্টিক পদার্থের আবিষ্কারের ফলে নিত্যব্যবহার্য দ্রব্যাদির তৈরীতে গতানুগতিক পদার্থ (যেমন, আইভরি, কাছিমের খোলস, পশুর শিং)-এর জায়গা নিলো সেটি। পরবর্তীতে এইসকল প্লাস্টিক পদার্থকে সেলুলয়েড হিসেবে একটি সাধারণ নাম দেয়া হয়।

তো, থার্মোপ্লাস্টিক পদার্থ হিসেবে আমরা আজকাল কেমিক্যালি সিন্থেটিক পদার্থ (পলিথিন, পলিএস্টার) চিনলে-জানলেও, এর শুরুটা হয়েছিলো প্রাকৃতিক পদার্থের জাতক থেকে (যাকে বলা হয় Re-generated cellulose)।

পুনশ্চ: ফটোগ্রাফিক ফিল্ম ক্যামেরায় যে ফিল্ম ব্যবহার করা হতো সেটি তৈরী করা হতো সেলুলয়েড দিয়ে। তাছাড়া নিত্যব্যবহার্য আরো কিছু পণ্য যেমন চিরুনী, কলম, পিয়ানোর কি, চশমার ফ্রেম তৈরি করা হতো সেলুলোজ দিয়ে। তবে এটি খুবই দাহ্য বস্তু।

  • প্লাস্টিসাইজার (Plasticizer): প্লাস্টিসাইজার মূলত একধরণের Additive পদার্থ যা দ্রবনের Viscosity নিয়ন্ত্রণ করে এবং চাহিদা অনুযায়ী দ্রবনের Plasticity তৈরী করে।
  • ক্যাম্ফোর (Camphor):মোমের মত একধরণের চিটচিটে পদার্থ যা তৈরী করা হয় ‘এশিয়ান ক্যাম্ফোর ট্রি’ ( Cinnamonum camphora ) থেকে প্রাপ্ত তেল থেকে।


তথ্যসূত্র:১) https://www.britannica.com/technology/celluloid২) https://www.thesprucecrafts.com/what-to-know-about-celluloid-149074
Share:

Friday, June 7, 2019

স্টক সল্যুশন থেকে ডায়িং রেসিপি ক্যাল্কুলেশন। Calculation of Dyeing recipe from Stock solution

আগের লেখায় দেখিয়েছি কীভাবে ডায়িং ল্যাবে স্টক সল্যুশন ক্যাল্কুলেশন করতে হয়। এই লেখায় আমরা দেখবো কখন স্টক সল্যুশনের প্রয়োজন হয় এবং স্টক সল্যুশন থেকে কীভাবে ডাই সল্যুশন হিসাব করা যায়।



একটা সাধারণ ডায়িং রেসিপি ধরে নেয়া যাক।
M:L = 1:10
Levelling agent = 1.0g/L
Sequestering agent = 0.5g/L
Anti-creasing agent = 2.0g/L
Indofix Black 3RL = 1.20%
Indofix Red H4BL = 0.45%
Indofix Yellow 3RL = 0.05%

সাধারণত ইন্ডাস্ট্রিতে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ শেড (Shade) তৈরীর জন্য আগে রেসিপি এবং লিকার রেশিও থেকে ডাই এবং কেমিক্যালের পরিমাণ নির্ণয় করা হয়। অধিকাংশ ইন্ডাস্ট্রির ল্যাবে প্রথমে 1g ফেব্রিক স্যাম্পলের জন্য এই হিসাব করে রাখা হয়। পরে প্রয়োজনমত বিভিন্ন ওজনের ফেব্রিক স্যাম্পলের জন্য নতুন করে আর হিসাব করার দরকার পড়ে না। 1g স্যাম্পলের জন্যে করে রাখা হিসাবের সাথে শুধু সেই নির্দিষ্ট ওজন গুণ করে নিলেই হয়। যেমন 1g ফেব্রিকের জন্য লেভেলিং এজেন্ট যদি লাগে xg, সেক্ষেত্রে 5g ফেব্রিকের জন্য লাগবে 5xg। একদম সিম্পল।

এখানে যে জিনিসটি গুরুত্বপূর্ণ সেটি হচ্ছে যে ল্যাবে সাধারণত 1g ফেব্রিক (বা অন্য যেকোনো ওজনের স্যাম্পল) স্যাম্পলের জন্যে হিসাবকৃত ডাই বা কেমিক্যালের পরিমাণ মাঝে মাঝে এত ক্ষুদ্র আসে যে সেটা সাধারণ ব্যালান্সে খুব নিখুতভাবে পরিমাপ করা যায় না বা গেলেও সবাই চায় আরো নিখুত করতে। সেই কারণেই স্টক সল্যুশন তৈরী করার প্রয়োজন পড়ে। তো ধাপে ধাপে এগোনো যাক।

প্রথমে 1g ফেব্রিক স্যাম্পলের জন্য রেসিপি হিসাব করা যাক
যখন কেমিক্যালের পরিমান g/L দেয়া থাকে তখন সেটির হিসাব করতে হবে লিকার থেকে অর্থাৎ, নির্দিষ্ট ওজনের ফেব্রিকের জন্য প্রয়োজনীয় পানির পরিমাণ থেকে।
এখন 1g ফেব্রিকের জন্য লিকার বা পানির পরিমাণ হবে L = 1×10 = 10 ml। কাজেই,
কিন্তু যখন কেমিক্যালের (বিশেষ করে ডাই-এর) পরিমাণ দেয়া হয় % এ, তখন সরাসরি ফেব্রিকের ওজন থেকে এর হিসাব করতে হবে। যেমন,
কিছু কাজ এগিয়ে নেয়া গেছে অর্থাৎ 1g ফেব্রিক স্যাম্পলের জন্য রেসিপি ক্যাল্কুলেশন করা শেষ। এখন ধরে নেয়া যাক যে ল্যাবের স্যাম্পল ফেব্রিকের ওজন 10g। কাজেই 1g ফেব্রিকের জন্যে হিসাব করা প্রত্যেক রেসিপিকে ১০ দিয়ে গুণ করতে হবে। তাহলেই 10g ফেব্রিকের রেসিপি পাওয়া যাবে। নিচের টেবিলে সকল হিসাব দেখানো হয়েছে।

তো এখন টেবিল থেকে দেখা যাচ্ছে যে, 10g ফেব্রিকের জন্যে ডাই এবং কেমিক্যালের যে পরিমাণ পাওয়া গেছে তা সঠিকভাবে পরিমাপ করাটা কঠিন হবে। কাজেই আমাদের স্টক সল্যুশন তৈরী প্রয়োজন পড়বে। প্রথমত আমরা 1% স্টক সল্যুশন তৈরী করবো। স্টক সল্যুশন কীভাবে তৈরী করতে হয় তা আগের লেখায় দেখানো হয়েছে। এখন 1% স্টক সল্যুশন থেকে ডাই এবং কেমিক্যালের পরিমাণ নির্ণয় করতে হবে। লেভেলিং এজেন্টের জন্যে নমুনা হিসাব করে দেখানো হলো,

Levelling agent from 1% stock soln = (0.1 × 100)/1 = 10ml

বাকি সকল কেমিক্যাল এবং ডাই-এর ক্ষেত্রে এই হিসাব একই এবং এই হিসাব থেকে দেখা যাচ্ছে যে এখন 1% স্টক সল্যুশন থেকে খুব সহজে পিপেটের মাধ্যমে নির্দিষ্ট পরিমাণ মেপে নেয়া সহজ হবে। কিন্তু মুশকিলে পড়তে হবে Indofix Yellow 3RL এর জন্যে। কেননা 1% স্টক সল্যুশন তৈরীর পরও এর পরিমাণ পিপেটের মাধ্যমে মেপে নেয়াটা খুব সহজ হবে না যদিনা তেমন পিপেট না থাকে। কাজেই সেক্ষেত্রে আমাদের 0.1% স্টক সল্যুশনের শরণাপন্ন হতে হবে। তবেই সহজে পিপেটের মাধ্যমে পরিমাপ করে নেয়া যাবে। সকল পরিমাপ টেবিলে দেখানো হলো।

M:L = 1:10

M=1g
L=10ml
M=10g
L=100ml
Stock soln
Amount from Stock soln
Levelling agent
1.0g/L
0.010g
0.10g
1.0%
10ml
Sequestering agent
0.5g/L
0.005g
0.05g
1.0%
5ml
Anti-creasing agent
2.0g/L
0.020g
0.20g
1.0%
20ml
Indofix Black 3RL
1.20%
0.0120g
0.120g
1.0%
12ml
Indofix Red H4BL
0.45%
0.0045g
0.045g
1.0%
4.5ml
Indofix Yellow 3RL
0.05%
0.0005g
0.005g
0.1%
5ml

তবে রেসিপি হিসাবের ক্ষেত্রে সকল কাজ শেষ হলেও আরো একটু কাজ বাকি আছে যেটা অনেকেই ভুলে যায়। সেটি হলো স্টক সল্যুশন থেকে ডাই বা কেমিক্যাল নেয়ার পর মোট পানির পরিমাণ থেকে সেটুকু বাদ দিয়ে তারপরই পানি নিতে হবে। যেমন 10g ফেব্রিকের জন্যে পানির প্রয়োজন ছিলো 100ml। কিন্তু স্টক সল্যুশন তৈরীর পর কেমিক্যাল এবং ডাই সল্যুশনের পরিমাণ হয়েছে 56.5ml. কাজেই এইসব সল্যুশন নেয়ার পর অবশ্যই 100ml পানির প্রয়োজন নেই। পানির প্রয়োজন এখন শুধুমাত্র (100-56.5)=43.5ml।

*সরলীকৃত ফর্মুলাসমূহ
BSc in Textile Engineering
Khulna University of Engineering & Technology (KUET)


Share:

Thursday, May 30, 2019

একটু স্টক সল্যুশন তৈরী করা যাক!!! (How to prepare Stock Solution)

সেই ছোটবেলায়, মানে কলেজে থাকাকালীন সায়েন্সের শিক্ষার্থীরা রসায়নে স্টক সল্যুশন তৈরী করার পদ্ধতি নাকে-কলমে শিখেছিলো। নাকে-কলমে মানে হচ্ছে যে, এখনো অস্পষ্ট ভাবে কারো হয়তো সেটা মনে আছে, আবার কারো কারো এর নাম পর্যন্তও মনে নেই (নাকে-কলমে বলতে অভিধানে কোনো শব্দ নেই)। যাহোক, তো টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ পড়ার দরুন, বিশেষ করে ওয়েট প্রসেসিং-এ পড়ার কারণে এই স্টক সল্যুশন ব্যাপারটা বুঝতে একটু সমস্যায় পড়তে হয় অধিকাংশ সময়ে। এই স্টক সল্যুশন ব্যাপারটাকে একটু Dilute, মানে একটু সরল করে বোঝার চেষ্টা করা যাক।

স্টক সল্যুশনের ক্ষেত্রে প্রথমেই যে ব্যাপারটা আসে, সেটা হচ্ছে সল্যুশনের পার্সেন্টেজ, মানে 1% সল্যুশন, 2% সল্যুশন। ডায়িং-এর ক্ষেত্রে সেই পার্সেন্টেজ মাঝেমধ্যে 0.1%, 0.01% এমনকি 0.001% পর্যন্তও হিসাব করার দরকার পড়তে পারে। আস্তে আস্তে এগোনো যাক,

প্রথমত, 1% বা 2%... সল্যুশন তৈরী করা যায় কীভাবে দেখা যাক। ধরা যাক, 5% সল্যুশন তৈরী করতে হবে। তাহলে আগে দেখতে হবে যে, যে বস্তুটির সল্যুশন তৈরী করতে হবে সেটি কঠিন (যেমন ডাই) নাকি তরল (যেমন এসিটিক এসিড)।

কঠিন হলে 5% সল্যুশন = 5g কঠিন পদার্থ + 100ml পানি
তরল হলে 5% সল্যুশন = 5ml তরল পদার্থ + 95ml পানি

অন্যান্য সকল পার্সেন্টেজের ক্ষেত্রে একইভাবে হিসেব করতে হবে।

এখন দেখা যাক যে, দশমিকের ক্ষেত্রে স্টক সল্যুশন, অর্থাৎ 0.1%, 0.01% বা 0.001% সল্যুশন হিসাব করা যায় কীভাবে! যেহেতু 0.1g, 0.01g বা 0.001g পরিমান কঠিন পদার্থ কিংবা 0.1ml, 0.01ml বা 0.001ml পরিমান তরল পদার্থ পরিমাপ করা সবসময় সম্ভব হয়ে ওঠে না। সেক্ষেত্রে সরাসরি এই স্টক তৈরী না করে একটু বাড়তি কাজ করতে হয়। কাজ আসলে তেমন কিছু না, ঠিক আগের মত করে Mother Solution তৈরী করে নিতে হবে। কেমন দেখা যাক,

যদি 0.1%, 0.01% বা 0.001% সল্যুশন তৈরী করতে হয়, সেক্ষেত্রে প্রথমে মাদার সল্যুশন হিসেবে 1% সল্যুশন তৈরী করে নিতে হবে। অর্ধেক কাজ শেষ, বাকি অর্ধেক কাজের হিসাব নিচে দিলাম। (*কঠিন পদার্থ ধরে নিলাম)

1% সল্যুশন = 1g কঠিন পদার্থ + 100ml পানি
0.1% সল্যুশন = 1% সল্যুশনের 10ml + 90ml পানি (*যেহেতু এখন 1% সল্যুশন তরল হয়ে গেছে)

একটু মিলিয়ে নেয়া যাক সব ঠিকাছে কিনা। মাদার সল্যুশনে অর্থাৎ, 1% সল্যুশনে প্রতি 100ml পানিতে আছে 1g কঠিন পদার্থ। কাজেই 10ml সল্যুশনে আছে 0.1g কঠিন পদার্থ। কাজেই যখন এই 10ml সল্যুশনের সাথে আরো 90ml পানি যোগ করা হলো তখন মোট পানির পরিমাণ হলো 100ml যেখানে 0.1g কঠিন পদার্থ আছে। বাংলা হিসাব করলাম আরকি। গাণিতিক হিসাব চাইলেও দেয়া যাবে। কিন্তু ব্যাপারটা সরল করতে গিয়ে জটিল হয়ে যাবে।

তো একইভাবে, 0.01% সল্যুশন = 1% সল্যুশনের 1ml + 99ml পানি
অথবা, 0.01% সল্যুশন = 0.1% সল্যুশনের 10ml + 90ml পানি

এভাবে মাদার সল্যুশন থেকে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র স্টক স্টক সল্যুশন তৈরী করা যাবে। তবে সাধারণত হিসাবের সুবিধার্থে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে 1% কিংবা 5% স্টক সল্যুশন তৈরী করা হয়ে থাকে (একইভাবে এটি মাদার সল্যুশন হিসেবে কাজ করে)। পরের লেখায় স্টক সল্যুশন কখন দশমিকে নেয়ার দরকার পড়ে এবং কীভাবে স্টক থেকেডাই-কেমিক্যালের পরিমাণ হিসাব করা যায় সেটা নিয়ে আলোচনা করা যাবে।
...
BSc in Textile Engineering
Khulna University of Engineering & Technology (KUET)
Share:

Saturday, August 11, 2018

নন্দিত নরকে- হুমায়ূন আহমেদ

প্রথমেই ‘নন্দিত নরকে’ উপন্যাস নিয়ে শামসুর রাহমানের করা মন্তব্যটি তুলে ধরলাম,
“যখন হুমায়ূন আহমেদের প্রথম উপন্যাস ‘নন্দিত নরকে’ প্রকাশিত হয়, তখন আমি দৈনিক বাংলার একজন সহকারী সম্পাদক হিসেবে কর্মরত ছিলাম। বইটি পড়ে আমার এত ভালো লেগেছিলো যে, স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে আমি আমার কলামে সেই বইয়ের নাতিদীর্ঘ আলোচনা করি। সেদিনই আমার মনে হয়েছিলো, আমাদের কথাসাহিত্যে নতুন একজন কথাশিল্পীর আবির্ভাব ঘটেছে। এরপর সময়ের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে হুমায়ূন আহমেদ অনেকগুলো উপন্যাস রচনা করেছেন এবং ইতোমধ্যেই তিনি বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় লেখক। জনপ্রিয়তা সম্পর্কে কারো কারো মনে সন্দেহের উদ্রেক হয় এবং কেউ কেউ বাঁকা উক্তিও করে ফেলেন। কিন্তু দেখা গেছে অনেক উৎকৃষ্ট রচনাই অত্যন্ত জনপ্রিয়। হুমায়ূন আহমেদ আমাদের সস্তা চতুর্থ শ্রেণীর লেখকদের হাত থেকে মুক্তি দিয়েছেন। তিনি, সন্দেহ নেই, বিশাল পাঠকগোষ্ঠী তৈরি করেছেন, যা সাহিত্যের পক্ষে উপকারী। এ কথা বলতে আমার বিন্দুমাত্র দ্বিধা নেই যে, তিনি ভবিষ্যতে আমাদের সাহিত্যের ইতিহাসে কিংবদন্তির মর্যাদা পাবেন।”
_ শামসুর রাহমান
দৈনিক জনকণ্ঠ
১৩ নভেম্বর, ১৯৯৮

হুমায়ূন আহমেদের লেখাগুলো পড়তে আমি খুবই ভয় পাই। নাহ ভূতের গল্প তো নয় এগুলো। ভয় পাওয়ার কারণ এই যে, লেখাগুলো খুব সহজে মনের মধ্যে ঢুকে যায়। কখনো কখনো গল্পের মধ্যেই নিজেকে কল্পনা করে বসি। আর এক সম্মোহনী ক্ষমতা আছে তাঁর লেখায়। তাই পরপর তাঁর লেখাগুলো আমি পড়তে পারি না, বা চাই নাই। পড়ার পর হুট করে কেমন জানি করে ওঠে মধ্যে। এই যে ‘হুট করে কেমন জানি করে ওঠে’ এটাই আসলে তাঁর লেখার মূল বৈশিষ্ট্য।
‘নন্দিত নরকে’ উপন্যাসটি পড়ার সময়ও আমার মনোভাব একই হয়ে গেছে। একটা মোহময়তা আছে এই উপন্যাসে। হুমায়ূন আহমেদ গল্পকথক হিসেবে নিজেই এই গল্পটি বলছেন। কিন্তু তাঁর এই বলা, ভাবনা চিন্তার মাঝেই নিজেকে কল্পনা করে নেয়া যায় অনায়াসে।
এক মধ্যবিত্ত পরিবার যেখানে বাবার স্বল্প আয়ের উপর নির্ভর করা পরিবারে মোট লোকসংখ্যা ছয়জন এবং গৃহকর্তার বন্ধু মাস্টার কাকা; মোট সাতজন। বড় মেয়ে রাবেয়া অপ্রকৃতিস্থ, কাজেই তার এখানে ওখানে অবাধ যাতায়াত। এরপর খোকা হিসেবে আছেন গল্পকথক নিজে, এমএ পরীক্ষা দিবেন যিনি, বড়মা-এর ছেলে মন্টু বিএ পড়ছে এবং আছে ছোট বোন রুনু। সাধারণভাবে গল্পের শুরুটা হলেও আস্তে আস্তে ঘটনার মোড় ঘুরতে থাকে অন্যদিকে। গল্পের শেষ হয় রাবেয়ার মৃত্যু এবং মাস্টার কাকাকে হত্যার অভিযোগে মন্টুর ফাঁসির মাধ্যমে। কিন্তু রাবেয়ার মৃত্যু হলো কিভাবে? কিংবা কেনো মন্টু মাস্টার কাকাকে খুন করলো? সেসব প্রশ্নের উত্তর জানার জন্য আপনাকে অবশ্যই এই বইটি পড়তে হবে।
এর মধ্যে মসলা হিসেবে আরো আছে শীলু নামে রুনুর বান্ধবীর প্রতি গল্পকথকের প্রেম, রাবেয়াকে বিয়ে করতে চাওয়া হারুন সাহেবের বউ নাহার ভাবি এবং রাবেয়ার প্রতি তার মমত্ববোধ, এত দুঃখের মাঝেও গল্পকথকের রসায়নের লেকচারারশীপের সাড়ে চারশো টাকা বেতনের চাকরি পাওয়া। আর একটি কুকুর চরিত্রের কথা গল্পে পাওয়া যায় যার নাম পলা। শুধু পলাতক হতো বলেই এই নাম। একদিন সত্যিই পালিয়ে গেলো। রাবেয়া প্রায়ই তার খোঁজ করতো।
পরিশেষে সব আনন্দই হয়তো আসলে আনন্দের হয় না। যেমনটা দেখা গেছে এই পরিবারে। যেখানে হঠাৎ খেই হারিয়ে ফেলা পরিবারটি শোক সন্তপ্ত, কিন্তু সেখানে কারো চাকরি পাওয়ার সংবাদটা আসলেই কি আনন্দের? লেখক খুব সুন্দরভাবেই বুঝিয়ে দিয়েছেন বাস্তবতা কতটা সত্য ও নির্মম হতে পারে। গল্পকথক চেয়েছিলেন চাকরি পেয়ে মা-কে নিয়ে যাবেন সীতাকুণ্ডে, রুনুকে কিনে দেবেন সবুজ রঙের শাড়ি। চাকরি পেলেন কিন্তু সেই ইচ্ছা কি পূরণ হলো?
কিংবা মন্টুর ফাঁসির আদেশ হওয়ার পর ওই যে ইয়াসমিন নামের মন্টুর বান্ধবীটি হঠাৎ এসে দেখে গেলো মন্টুদের বাড়িতে। সেকি মন্টুকে ভালোবেসেছিলো? সে প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায় নি। মার্সি পিটিশন উপেক্ষা করে ফাঁসি হলো মন্টুর। জেলের বাইরে দাঁড়িয়ে আছেন গল্পকথক আর তার বাবা, জেলারের চিঠি দেখিয়ে মন্টুর লাশ নিয়ে যাবার জন্য। কয়েকটি কাক উড়ে গেলো উপর দিয়ে।
.
.
বইটি ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন
Share: