Wednesday, August 21, 2019

প্রথম থার্মোপ্লাস্টিক পদার্থ!!!

থার্মোপ্লাস্টিক (Thermoplastic) বস্তু বা পলিমারের উদাহরণ দিতে গেলে প্রথমেই কিছু নিত্যব্যবহার্য বস্তুসমূহের কথা আমাদের সামনে চলে আসে, যেমন পলিথিন, পলিএস্টার, নাইলন ইত্যাদি। এই পলিমারগুলো আমাদের প্রতিদিনকার জীবনের একটি অন্যতম ব্যবহার্য হিসেবে পরিচিত। যদিও এরা বায়োডিগ্রেডেবল না, বরং পরিবেশের সমূহ ক্ষতি করছে এবং বর্তমান প্রকৃতি ও পরিবেশের জন্য এটি মারাত্মক হূমকিস্বরূপ। পরিবেশ আন্দোলনকারীদের এখন আন্দোলনের মুখ্য বিষয়ই হচ্ছে পলিথিন, পলিএস্টারের ব্যবহার কমিয়ে আনা। সে যাইহোক, লেখার মুখ্য বিষয় সেটি নয়।

বেশিরভাগ মানুষ থার্মোপ্লাস্টিক পলিমার হিসেবে পলিথিন, পলিএস্টারকে চিনলেও প্রথম থার্মোপ্লাস্টিক পলিমার হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয় যে বস্তুটিকে, তার নাম সেলুলয়েড। ব্যাপারটা খানিকটা মজার এবং একই সাথে অবাক করাও বটে যে, প্রথম থার্মোপ্লাস্টিক পলিমারই তৈরী করা হয়েছিলো সেলুলোজের ডেরিভেটিভ থেকে। যদিও সেলুলয়েড নামকরণ করা হয়েছে বেশ পরে। এই নামটি ব্যবহার করা হতো থার্মোপ্লাস্টিক সেলুলোজিক পলিমার সহ আরো বেশ কিছু থার্মোপ্লাস্টিক পলিমারের সাধারণ নাম হিসেবে। কাজেই এটুকু নিশ্চিত যে থার্মোপ্লাস্টিক পলিমারের শুরুটা ছিলো সেলুলোজ (Natural Source) ডেরিভেটিভ থেকে। কিভাবে তৈরী হলো বা কে করলো সে সম্পর্কে কিছু জানা যাক।

সেলুলয়েড মূলত একপ্রকার সমসত্ত্ব কলয়ডীয় মিশ্রণ (Colloidal Dispersion), অর্থাৎ সেলুলোজ এবং কলয়েড নাম দুটি মিলে হলো সেলুলয়েড। এই কলয়ডীয় মিশ্রণ তৈরী করা হয়েছিলো নাইট্রো-সেলুলোজ এবং ক্যাম্ফোর (Camphor) নামক পদার্থ দিয়ে। নাইট্রো-সেলুলোজ মূলত কটন এবং উড সেলুলোজের নাইট্রিক এস্টার। এটি অনেক দাহ্য একটি পদার্থ। কাজেই সেলুলয়েডের মধ্যেও এই গুণটি (কিংবা দোষ) আছে।

সেলুলয়েডের ইতিহাস ঘাটতে গিয়ে এর আবিষ্কার হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে ইংরেজ রসায়নবিদ অ্যালেকজান্ডার পার্কস (Alexander Parkes) কে, যিনি ১৮৫৬ সালে বেশ কিছু প্লাস্টিক পদার্থ তৈরী করে তার পেটেন্ট নেন। এইসব প্লাস্টিক পদার্থকে তিনি নাম দেন পারকেসিন (Parkesine)। তিনি পারকেসিন তৈরী করেছিলেন নাইট্রো-সেলুলোজ থেকে। প্রথমে নাইট্রো-সেলুলোজকে তিনি এ্যালকোহল বা উড ন্যাপথা-র দ্রবণে দ্রবীভূত করেন এবং পরবর্তীতে এই দ্রবণকে মিশ্রিত করেন প্লাস্টিসাইজার (যেমন উদ্ভিজ্জ তেল) অথবা ক্যাম্ফোর এর সাথে।

পারকেসিনের আবিষ্কারের পর আস্তে আস্তে আরো নানাধরণের প্লাস্টিক পদার্থের আবিষ্কার হলো। যেমন, পরবর্তীতে এলো জাইলোনাইট (Xylonite) নামক প্লাস্টিক যা পারকেসিনের থেকেও সুদৃড় ছিলো। এভাবে প্লাস্টিক পদার্থের আবিষ্কারের ফলে নিত্যব্যবহার্য দ্রব্যাদির তৈরীতে গতানুগতিক পদার্থ (যেমন, আইভরি, কাছিমের খোলস, পশুর শিং)-এর জায়গা নিলো সেটি। পরবর্তীতে এইসকল প্লাস্টিক পদার্থকে সেলুলয়েড হিসেবে একটি সাধারণ নাম দেয়া হয়।

তো, থার্মোপ্লাস্টিক পদার্থ হিসেবে আমরা আজকাল কেমিক্যালি সিন্থেটিক পদার্থ (পলিথিন, পলিএস্টার) চিনলে-জানলেও, এর শুরুটা হয়েছিলো প্রাকৃতিক পদার্থের জাতক থেকে (যাকে বলা হয় Re-generated cellulose)।

পুনশ্চ: ফটোগ্রাফিক ফিল্ম ক্যামেরায় যে ফিল্ম ব্যবহার করা হতো সেটি তৈরী করা হতো সেলুলয়েড দিয়ে। তাছাড়া নিত্যব্যবহার্য আরো কিছু পণ্য যেমন চিরুনী, কলম, পিয়ানোর কি, চশমার ফ্রেম তৈরি করা হতো সেলুলোজ দিয়ে। তবে এটি খুবই দাহ্য বস্তু।

  • প্লাস্টিসাইজার (Plasticizer): প্লাস্টিসাইজার মূলত একধরণের Additive পদার্থ যা দ্রবনের Viscosity নিয়ন্ত্রণ করে এবং চাহিদা অনুযায়ী দ্রবনের Plasticity তৈরী করে।
  • ক্যাম্ফোর (Camphor):মোমের মত একধরণের চিটচিটে পদার্থ যা তৈরী করা হয় ‘এশিয়ান ক্যাম্ফোর ট্রি’ ( Cinnamonum camphora ) থেকে প্রাপ্ত তেল থেকে।


তথ্যসূত্র:১) https://www.britannica.com/technology/celluloid২) https://www.thesprucecrafts.com/what-to-know-about-celluloid-149074
Share: