Saturday, August 11, 2018

নন্দিত নরকে- হুমায়ূন আহমেদ

প্রথমেই ‘নন্দিত নরকে’ উপন্যাস নিয়ে শামসুর রাহমানের করা মন্তব্যটি তুলে ধরলাম,
“যখন হুমায়ূন আহমেদের প্রথম উপন্যাস ‘নন্দিত নরকে’ প্রকাশিত হয়, তখন আমি দৈনিক বাংলার একজন সহকারী সম্পাদক হিসেবে কর্মরত ছিলাম। বইটি পড়ে আমার এত ভালো লেগেছিলো যে, স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে আমি আমার কলামে সেই বইয়ের নাতিদীর্ঘ আলোচনা করি। সেদিনই আমার মনে হয়েছিলো, আমাদের কথাসাহিত্যে নতুন একজন কথাশিল্পীর আবির্ভাব ঘটেছে। এরপর সময়ের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে হুমায়ূন আহমেদ অনেকগুলো উপন্যাস রচনা করেছেন এবং ইতোমধ্যেই তিনি বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় লেখক। জনপ্রিয়তা সম্পর্কে কারো কারো মনে সন্দেহের উদ্রেক হয় এবং কেউ কেউ বাঁকা উক্তিও করে ফেলেন। কিন্তু দেখা গেছে অনেক উৎকৃষ্ট রচনাই অত্যন্ত জনপ্রিয়। হুমায়ূন আহমেদ আমাদের সস্তা চতুর্থ শ্রেণীর লেখকদের হাত থেকে মুক্তি দিয়েছেন। তিনি, সন্দেহ নেই, বিশাল পাঠকগোষ্ঠী তৈরি করেছেন, যা সাহিত্যের পক্ষে উপকারী। এ কথা বলতে আমার বিন্দুমাত্র দ্বিধা নেই যে, তিনি ভবিষ্যতে আমাদের সাহিত্যের ইতিহাসে কিংবদন্তির মর্যাদা পাবেন।”
_ শামসুর রাহমান
দৈনিক জনকণ্ঠ
১৩ নভেম্বর, ১৯৯৮

হুমায়ূন আহমেদের লেখাগুলো পড়তে আমি খুবই ভয় পাই। নাহ ভূতের গল্প তো নয় এগুলো। ভয় পাওয়ার কারণ এই যে, লেখাগুলো খুব সহজে মনের মধ্যে ঢুকে যায়। কখনো কখনো গল্পের মধ্যেই নিজেকে কল্পনা করে বসি। আর এক সম্মোহনী ক্ষমতা আছে তাঁর লেখায়। তাই পরপর তাঁর লেখাগুলো আমি পড়তে পারি না, বা চাই নাই। পড়ার পর হুট করে কেমন জানি করে ওঠে মধ্যে। এই যে ‘হুট করে কেমন জানি করে ওঠে’ এটাই আসলে তাঁর লেখার মূল বৈশিষ্ট্য।
‘নন্দিত নরকে’ উপন্যাসটি পড়ার সময়ও আমার মনোভাব একই হয়ে গেছে। একটা মোহময়তা আছে এই উপন্যাসে। হুমায়ূন আহমেদ গল্পকথক হিসেবে নিজেই এই গল্পটি বলছেন। কিন্তু তাঁর এই বলা, ভাবনা চিন্তার মাঝেই নিজেকে কল্পনা করে নেয়া যায় অনায়াসে।
এক মধ্যবিত্ত পরিবার যেখানে বাবার স্বল্প আয়ের উপর নির্ভর করা পরিবারে মোট লোকসংখ্যা ছয়জন এবং গৃহকর্তার বন্ধু মাস্টার কাকা; মোট সাতজন। বড় মেয়ে রাবেয়া অপ্রকৃতিস্থ, কাজেই তার এখানে ওখানে অবাধ যাতায়াত। এরপর খোকা হিসেবে আছেন গল্পকথক নিজে, এমএ পরীক্ষা দিবেন যিনি, বড়মা-এর ছেলে মন্টু বিএ পড়ছে এবং আছে ছোট বোন রুনু। সাধারণভাবে গল্পের শুরুটা হলেও আস্তে আস্তে ঘটনার মোড় ঘুরতে থাকে অন্যদিকে। গল্পের শেষ হয় রাবেয়ার মৃত্যু এবং মাস্টার কাকাকে হত্যার অভিযোগে মন্টুর ফাঁসির মাধ্যমে। কিন্তু রাবেয়ার মৃত্যু হলো কিভাবে? কিংবা কেনো মন্টু মাস্টার কাকাকে খুন করলো? সেসব প্রশ্নের উত্তর জানার জন্য আপনাকে অবশ্যই এই বইটি পড়তে হবে।
এর মধ্যে মসলা হিসেবে আরো আছে শীলু নামে রুনুর বান্ধবীর প্রতি গল্পকথকের প্রেম, রাবেয়াকে বিয়ে করতে চাওয়া হারুন সাহেবের বউ নাহার ভাবি এবং রাবেয়ার প্রতি তার মমত্ববোধ, এত দুঃখের মাঝেও গল্পকথকের রসায়নের লেকচারারশীপের সাড়ে চারশো টাকা বেতনের চাকরি পাওয়া। আর একটি কুকুর চরিত্রের কথা গল্পে পাওয়া যায় যার নাম পলা। শুধু পলাতক হতো বলেই এই নাম। একদিন সত্যিই পালিয়ে গেলো। রাবেয়া প্রায়ই তার খোঁজ করতো।
পরিশেষে সব আনন্দই হয়তো আসলে আনন্দের হয় না। যেমনটা দেখা গেছে এই পরিবারে। যেখানে হঠাৎ খেই হারিয়ে ফেলা পরিবারটি শোক সন্তপ্ত, কিন্তু সেখানে কারো চাকরি পাওয়ার সংবাদটা আসলেই কি আনন্দের? লেখক খুব সুন্দরভাবেই বুঝিয়ে দিয়েছেন বাস্তবতা কতটা সত্য ও নির্মম হতে পারে। গল্পকথক চেয়েছিলেন চাকরি পেয়ে মা-কে নিয়ে যাবেন সীতাকুণ্ডে, রুনুকে কিনে দেবেন সবুজ রঙের শাড়ি। চাকরি পেলেন কিন্তু সেই ইচ্ছা কি পূরণ হলো?
কিংবা মন্টুর ফাঁসির আদেশ হওয়ার পর ওই যে ইয়াসমিন নামের মন্টুর বান্ধবীটি হঠাৎ এসে দেখে গেলো মন্টুদের বাড়িতে। সেকি মন্টুকে ভালোবেসেছিলো? সে প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায় নি। মার্সি পিটিশন উপেক্ষা করে ফাঁসি হলো মন্টুর। জেলের বাইরে দাঁড়িয়ে আছেন গল্পকথক আর তার বাবা, জেলারের চিঠি দেখিয়ে মন্টুর লাশ নিয়ে যাবার জন্য। কয়েকটি কাক উড়ে গেলো উপর দিয়ে।
.
.
বইটি ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন
Share:

Friday, August 10, 2018

কৃষ্ণপক্ষ-হুমায়ুন আহমেদ


Image result for krishnopokkho

গল্পের শুরুটা হয়েছে অরু এবং মুহিব নামক দুই তরুণ-তরুণীর প্রণয়ের পরিণতি অর্থাৎ, বিয়ের মাধ্যমে। যদিও বিয়েটা হয়েছে তাদের উভয়ের পরিবারকে না জানিয়ে, অর্থাৎ পালিয়ে বিয়ে করা বলে যাকে আর কি। অরু-র বাবা একজন রিটায়ার্ড পুলিশ অফিসার। পালিয়ে আসার আগে সে তার বড় বোনের টেবিলে একখানা চিঠি লিখে রেখে আসে। সৌভাগ্যবশত (কিংবা দূর্ভাগ্যবশত) সেই চিঠি পড়ার অবসর তার বোন পায় নাই। ফলে তার বাবার হার্ট এ্যাটাকের যে সম্ভাবনা বুঝতে পেরেছিলো অরু, সেটা আর হলোনা।

ওদিকে মুহিব এতিম ছেলে, অনেকটা হিমু চরিত্রের মত (ভালোভাবে বলতে গেলে দেশের শিক্ষিত বেকার যুবসমাজের প্রতিচ্ছবি আরকি!) বোনের বাসায় থেকে মানুষ। তার দুলাভাই ব্যক্তি হিসেবে ততটা সুবিধার নয়, আনুষ্ঠানিক টাইপের মানুষ। বিয়ের পরপরই তার দুলাভাই তাকে ডেকে পাঠায় একটা চাকরির সম্ভাবনার কথা বলে। কিন্তু যেতে হবে চিটাগাং-এ। নববধূ ফেলে এই যাওয়াই হয়ে যায় তার শেষ যাওয়া।

যাত্রাপথে এক্সিডেন্ট করে মুহিব হাসপাতালে যখন ভর্তি, তখন অরু ফিরে গেছে তার বাপের বাড়িতে। যদিও সে এই এক্সিডেন্টের কথা কিছুই জানে না। বাড়িতে তার বিয়ের ব্যাপারেও কেউ কিছু জানে না। হঠাৎ সেখানে আগমন ঘটে তৃতীয় চরিত্র- আবরার সাহেব, যার সাথে পারিবারিকভাবে অরুর বিয়ের কথা চলছে। কথা বলতে বলতে একসময় অরু তাকে বলে দেয় মুহিবের কথা।

ঠিক এই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি মুহিবের জীবন প্রদীপ আস্তে আস্তে নিভে যাচ্ছে। তার বড় বোন এবং তার বন্ধু বজলু চেষ্টা করছে অরুর সঙ্গে যোগাযোগ করার। শেষমুহূর্তে যখন তাকে টেলিফোনে পাওয়া গেলো তখন তাকে জানানো হলো সব। অরু ছুটে গেলো হাসপাতালে। ডাক্তারগণ মুহিবের জীবনের আশা যখন ত্যাগ করে দিয়েছেন, তখন অরু চেষ্টা করেছিলো ভালোবাসা দিয়ে মুহিবকে ফিরিয়ে আনার জন্য।

কিন্তু প্রকৃতির নিয়মের বিপরীত উপন্যাসে, গল্পে দেখা গেলেও হুমায়ূন স্যারের এই মধ্যবিত্ত উপন্যাসে দেখা যায় নাই। বরং চরম বাস্তবতা, প্রকৃতি ও কালের চিরন্তন প্রবাহকেই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। সব কিছু শেষ হয়ে যায় এরপর। আবরার এবং অরুর বিয়ে হয়।

ঠিক ২৫ বছর পরে যখন তাদের মেয়ের বিয়েতে আবার সিল্কের কটকটে হলুদ পাঞ্জাবী পরা বরকে দেখা যায়, তখন অরুর নিজের প্রথম বিয়ের দিনের কথা, কটকটে হলুদ পাঞ্জাবী পরা মুহিবের কথা মনে করে অজান্তেই স্মৃতিকাতর হয়ে ওঠে।


সহজ সরল ভাষায় সধারণ জীবনের একটি অংশ এভাবেই উঠে এসেছে হুমায়ূন আহমেদের ‘কৃষ্ণপক্ষ’ উপন্যাসটিতে। প্রথমদিকে মধ্যবিত্ত রোমান্স, শেষদিকে ট্র্যাজেডি; দুইয়ে মিলিয়ে উপন্যাসটি সুন্দর।

বইটি ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন
Share:

Solid Mechanics Problems and Solution


Share:

Never ending squares

Never ending squares:
1 = 1 = 1X1
1+3 = 4 = 2X2
1+3+5 = 9 = 3X3
1+3+5+7 = 16 = 4X4
1+3+5+7+9 = 25 = 5X5
1+3+5+7+9+11 = 36 = 6X6
1+3+5+7+9+11+13 = 49 = 7X7
Share:

স্বভাব-লোককাহিনী

কোন একসময় জনৈক ব্যক্তি একটি বিড়াল পুষতেন। একজন গোয়ালা তার বাসায় গরুর দুধের যোগান দিতেন। ঐ ব্যক্তির খুব আফিমের শখ ছিলো আবার। সারা দিন রাত আফিমের ঘোরেই পড়ে থাকতেন। এদিকে গরুর দুধ পাহারার দায়িত্ব ছিলো তার সেই বিড়ালটির উপর। প্রথম প্রথম কয়েকদিন বিড়ালটি তার দায়িত্ব পালন করলো সততার সাথে। গোলটা বাঁধলো কয়েকদিন পর।
.
বিড়ালের যা স্বভাব আর কি। কয়েকদিন পর বিড়ালটি এক গ্লাস দুধের এক-চতুর্থাংশ সাবাড় করে সেই পরিমাণ পানি মিশিয়ে রাখতে শুরু করলো। আফিমের নেশায় অচেতন ব্যক্তি সেটা ধরতে পারলো না। কিন্তু কিছুদিন পর বুঝতে পারলো কারচুপি হচ্ছে। এদিকে তারও বসে বসে বিড়ালের কারচুপি ধরার সময় নেই। ফলে সে প্রথম বিড়ালকে পাহারা দিতে দ্বিতীয় বিড়াল নিয়োগ করলো। প্রথম কয়েকদিন দ্বিতীয় বিড়ালটি খুব পাহারা দিলো। প্রথম বিড়াল পড়লো ঝামেলায়। কিন্তু বুদ্ধিও বের করে ফেললো। দ্বিতীয় বিড়ালটিকে বলল যে তারা দুইজনে যদি গ্লাসের অর্ধেকটা দুধ খেয়ে ফেলে তবে বাকিটা পানি মিশিয়ে দিলে কেউ কিছু টের পাবে না।
.
বিড়ালের যা স্বভাব আর কি। এরপর থেকে বিড়াল দুটি নিয়মিত গ্লাসের অর্ধেক দুধ সাবাড় করে পানি মিশিয়ে রাখতে শুরু করলো। আফিমের নেশায় অচেতন ব্যক্তি বুঝলো কারচুপি হচ্ছে কিন্তু তার সময় নেই এসব ধরার। প্রথম দুই বিড়ালকে পাহারা দেবার জন্য সে তৃতীয় বিড়াল নিয়োগ দিলো। প্রথম ও দ্বিতীয় বিড়াল বিপদে পড়লো। কিন্তু আবার বুদ্ধি বের করে ফেললো। তৃতীয় বিড়ালকেও দলে টেনে নিলো।
.
বিড়ালের যা স্বভাব আর কি। তিন বিড়ালে গ্লাসের তিন-চতুর্থাংশ দুধ খেয়ে বাকিটা পানি মিশিয়ে দিতে শুরু করলো। উপায় না দেখে চতুর্থ বিড়ালের নিয়োগ হলো। সেও বেশিদিন ভালো থাকতে পারলো না। প্রথম তিনটি বিড়াল তাকেও বুঝাতে সক্ষম হলো।
.
বিড়ালের যা স্বভাব আর কি। এরপর ৪টি বিড়াল গ্লাসের সবটুকু দুধ খেয়ে দুধের সর ওই ব্যক্তির গোঁফের উপর মাখিয়ে রাখতে শুরু করলো। আফিমের নেশায় ডুবে থাকা ব্যক্তি সব টের পেলেও তার সময় ছিলো না এসব দেখার...
.
মানুষের যা স্বভাব আর কি। মূল গল্প এখানেই শেষ হলেও প্রশ্ন থেকে গিয়েছিলো যে ৫ম বিড়াল নিয়োগ দেয়া হয়েছিলো কিনা! হয়তো না। কারণ এরপর আর গ্লাসের দুধ ভাগ করার উপায় ছিলো না। অথবা হতে পারে গোয়ালাকে এরপর থেকে দুধের যোগান দিতে নিষেধ করে দেয়া হয়েছিলো। কিংবা... নতুবা... ইত্যাদি ইত্যাদি...
.
(বিঃদ্রঃ গল্পটি নিছক লোককাহিনী। বাস্তব চরিত্রের সাথে মিল খুঁজে গল্পের সার্থকতা না তৈরী করাই ভালো।)
Share:

কোষ যখন শক্তিশালী স্টোরেজ ডিভাইস

বায়োলজিস্ট রিচার্ড ডকিন্স-এর মতে, 'There is enough information capacity in a single human cell to store the Encyclopedia Britannica, all 30 volumes of it, three or four times over’
.
অর্থাৎ একটা কোষের মধ্যে প্রায় ৪-৫ টি ৩০ ভলিউমের এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা সংরক্ষণ করে রাখা সম্ভব!!!  । শুধুমাত্র একটা কোষের মধ্যে যে পরিমান তথ্য আছে তা যদি কোন মানুষ পড়া শুরু করে এবং প্রতি সেকেন্ডে যদি ৩ টি শব্দও সে পড়তে পারে, তাহলে একটি কোষের সব তথ্য পড়ে শেষ করতে একজন মানুষের সময় লাগবে ৩১ বছর।
Share:

পুতুল নাচের ইতিকথা- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

Image result for putul nacher itikatha wiki
সাপ-খোঁপের আড্ডায় বটগাছের নিচে বজ্রপাতে হারুর মৃত্যু, মৃত হারুকে শশীর আবিষ্কার করে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া, হারুর পরিবারের দেখাশোনার স্ব-সিদ্ধান্ত, শশীর বাবা গোপালের সাথে শশীর আজীবনের মতের অনৈক্য, শশীর প্রতি পরাণের বউ কুসুম-এর ৮-৯ বছরের আকর্ষণ, কিন্তু অবশেষে শশীকে ছেড়ে পরাণকে নিয়ে চিরদিনের জন্য বাপের বাড়ি চলে যাওয়া, নন্দলালের সাথে বিন্দুর বিয়ে, বিন্দুর প্রতি নন্দর নির্যাতন, কিন্তু শেষপর্যন্ত এই নির্যাতনের লোভেই আবার ফিরে যাওয়া নন্দর কাছে, যাযাবর ও ছন্নছাড়া (তবে ভালো যাত্রাশিল্পী) কুমুদের সাথে পরাণের বোন মতির প্রেম, তারপর তাদের অসমবয়সী বিয়ে, কুমুদের সাথে থেকে গ্রাম্য মতির অদ্ভুত পরিবর্তন, কুমুদের প্রতি বনবিহারী বাবুর স্ত্রী জয়ার আকর্ষণ এবং শেষে অস্থিতি, কুমুদের ভবঘুরে স্বভাব, নিজ কথার মান বাঁচাতে যাদব পণ্ডিতের সস্ত্রীক মৃত্যু, যামিনী কবিরাজ ও তার স্ত্রী (শশীর কাছে যে সেনদিদি), কুসুমের সাথে শশীর তালবনে দেখা করা, কুসুমের অনুপস্থিতিতে শশীর বিরহ, ছেলেকে ভোলাতে ও বশ করতে গোপালের নানা ব্যার্থ প্রয়াস। শেষ পর্যন্ত গোপালের কাশীযাত্রা, শহরে যেতে মনস্থির করা শশীর আজীবনের জন্য গ্রামেই থেকে যাওয়া... ইত্যাদি
.
পড়তে গিয়ে যেটা বুঝলাম যে এই উপন্যাসটি ভাঙলেই ২-৩ টি উপন্যাস পাওয়া যেতো। শুরু করে শেষ না করা অবধি কাহিনী মেটে নাই। পড়তে পড়তে 'এর পর কি হবে?' টাইপের প্রশ্ন সব সময় মাথায় থাকবে। মাঝে মাঝে কিছু হতে গিয়েও হয় না। হয়েছে তার উল্টোটা। কেবল শেষ পর্যন্ত শশীর কপালে কোনোটিই সহ্য হইলো না, নাহ কুসুমের প্রেম, না পিতৃস্নেহ আর না নিজ ইচ্ছামতে শহরে যাওয়া। অথচ দায়িত্ব বেড়ে গেলো তার অনেকগুণ... বস্তুত লোভ-লালসা, প্রেম-পরিণয়-প্রতারণা, পাপ-পূণ্যে ভরা প্রায় অন্ধকার গ্রামকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই উপন্যাসে সেই একটি কথাই এসে গেছে যে বাস্তবে স্থির ও স্থায়ী কিছু নেই। লেখকের শ্রেষ্ঠ লেখা এইটিই।।
.
#পুতুলনাচের_ইতিকথা
#মানিক_বন্দ্যোপাধ্যায় এতো বড় করে উপন্যাস লেখার সময় পেয়েছিলো কোথায় সেটাই আমার প্রশ্ন...


Swaraz Mollick
Share:

Thursday, August 9, 2018

দুই শহরের গল্প-চার্লস ডিকেন্স

Image result for tale of two cities
চার্লস ডিকেন্সের 'দুই শহরের গল্প' (A Tale of two cities) পড়লাম।
.
মূলত ফরাসি বিপ্লবকে কাহিনীর প্রেক্ষাপটে আনা হয়েছে একরকম। ফ্রান্সের অভিজাত মার্কুইসরা সাধারণ মানুষের উপর সচরাচর নির্যাতন করতো, আমজনতার দুঃখ-দূর্দশা তাদের কাছে নিতান্তই তুচ্ছ। কেবল গোল বাঁধালো শেষ মার্কুইস চার্লস ডারনে। ব্যাতিক্রমী চার্লস নিজের সব জমিদারি ছেড়ে, এবং সাধারণ মানুষের খাজনা মওকুফ করে প্যারিস ছেড়ে চলে গেলো লন্ডনে।
.
ডঃ ম্যানেট এই মার্কুইসদের দ্বারা প্রতারিত হয়ে দীর্ঘ বছর বাস্তিল কারাগারে কাটিয়ে দেয়। ব্যাংকার মিঃ লরি নিরাপত্তার স্বার্থে ম্যানেটের মেয়ে লুসিকে লুকিয়ে নিয়ে যায় লন্ডনে। এবং ১৬ বছর পর এই সত্য লুসির কাছে প্রকাশ করে, এবন তাকে বলে যে তার বাবা কে সম্প্রতি ছেড়ে দেয়া হয়েছে। সুতরাং তাদের প্যারিসে গিয়ে তাকেও লন্ডনে নিয়ে আসা উচিৎ।
.
এদিকে ডঃ ম্য্যানেটকে লন্ডনে নিয়ে আসার পথে চার্লসের সাথে তাদের দেখা হওয়া, এবং চার্লসকে গুপ্তচর সন্দেহে লন্ডনের আদালতে দাঁড় করানো, সেখানে প্রায় একই রকম দেখতে সিডনি কারটনের সন্ধান। লুসির প্রতি চার্লস ও কারটনের প্রণয়, লুসি চার্লসের বিয়ে। সব মিলিয়ে বেশ ভালো একটা সময়।
.
এরপর বিপ্লবের সময় আটক হওয়া চার্লসের জমিদারির রক্ষক গ্যাবলকে বাঁচাতে গোপনে ফ্রান্সে আসা। কিন্তু তাকেও আটক করা হয় এবং কারাগারে দেয়া হয়। পরে একবার মুক্তি পেলেও, আবার তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়া হয়। কিন্তু চার্লসের পরিবর্তে শেষ পর্যন্ত কারটনের শিরচ্ছেদ করা হয়।
.
মূলত প্যারিস এবং লন্ডনের মধ্যেই এই ঘটনা-দূর্ঘটনাগুলো সংঘটিত হয়। সব মিলিয়ে দারূণ।


স্বরাজ মল্লিক
Share:

‘Blue Moon’ বা নীলচন্দ্র

Blue শব্দটা আছে বলেই যে চাঁদকে নীল হতে হবে এমন নয়। অর্থাৎ, Blue Moon আসলে ঠিক নীল রঙের নয়। সাধারণত প্রতি মাসে একটি করে পূর্ণচন্দ্র বা পূর্ণিমার চাঁদ দেখা যায়। কিন্তু কখনো কখনো এক মাসে দুইটি পূর্ণিমাও দেখা যেতে পারে। এই যে মাসের দ্বিতীয় যে পূর্ণিমার চাঁদ (অথবা একই ঋতুর চতুর্থ পূর্ণিমা), একেই বলা হয় Blue Moon। প্রায় প্রতি আড়াই বছর পরপর এরকমটা হয়ে থাকে। তবে ফেব্রুয়ারি মাসে কখনো নীলচন্দ্র দেখা যাবে না, কারণ প্রতিটি পূর্ণিমার মাঝে প্রায় ২৯.৫ দিনের বিরতি।
.
তো, প্রশ্ন থেকেই যায় যে নীল না হওয়া সত্ত্বেও একে নীলচন্দ্র বলা হবে কেনো। বলতে গেলে ব্যাপারটা কিছুটা ঐতিহাসিক, কাল্পনিক এবং লোকাচারভিত্তিক। প্রায় ষোড়শ শতাব্দীর দিকে ফিলিপ হিসকক নামে একজন লোকতত্ত্ববিদের লেখায় এই শব্দটি পাওয়া যায়। মূলত এই শব্দগুচ্ছ রূপক অর্থে ব্যবহার হত এবং ভালোভাবে বলতে গেলে নেতিবাচক অর্থে। যেমন ‘যেদিন পূর্ণিমার চাঁদ নীল হবে সেদিন তোমায় আমি বিয়ে করবো’ অর্থাৎ চাঁদ কখনো নীলও হবে না, বাকিটা বলার অপেক্ষা রাখে না।
Image may contain: sky, night and outdoor
.
পরে ক্রমে ক্রমে এটি হঠাৎ করেই সত্যিকারের চাঁদের সাথে জড়িয়ে পড়ে। যদিও চাঁদের বর্ণ পরিবর্তন হয় না আদতে। তবে চাঁদের এমন নামকরণের কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ খুঁজতে গেলে দেখা যায় ১৮৮৩ সালে যখন কারাকোটাও আগ্নেয়গিরি থেকে অগ্ন্যুৎপাত ঘটে তখন বাতাসের ধূলিকণা একরকম আলোক ফিল্টার হিসেবে কাজ করেছিলো যে কারণে সূর্যাস্ত সবুজ রঙের এবং চাঁদের আলো নীল রঙের মনে হয়েছিলো। দাবানল কিংবা ধূলিঝড়ের কারণেও এরকমটা হতে পারে। প্রকৃতপক্ষে এই নীলচন্দ্রের রঙ বিবর্ণ ধূসর ও সাদা, কিন্তু কখনো নীল নয়।
Share:

প্রথম সেলফি!!!

অক্সফোর্ড ডিকশনারীতে ২০১৩ সালে প্রথম ‘Selfie’ শব্দটি অন্তর্ভুক্ত করা হয় যার শব্দার্থ করা হয় এভাবে “a photograph that one has taken of oneself, typically one taken with a smartphone or webcam and uploaded to a social media website.”
.
যদিও সাম্প্রতিক সময়ে সবার হাতে স্মার্টফোন আসার পরপরই সেলফি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে অনেক। কিন্তু ইতিহাস বলে প্রায় দেড় শতাব্দী আগে থেকেই সেলফির প্রচলন হয়েছে। তখনকার সময়ে ছবি কিভাবে তুললে দৃষ্টিনন্দন হবে এটা পরীক্ষা করার জন্য ফটোগ্রাফাররা নিজের ক্যামেরায় নিজেই মডেল হিসেবে ছবি তোলার চেষ্টা করতেন। প্রকৃতপক্ষে ১৮৩৯ সালের রবার্ট কর্নেলিয়াস এর সেলফ-পোর্ট্রেট ফটোগ্রাফখানাকেই প্রথম সেলফির স্বীকৃতি দেয়া হয়।
Image may contain: 1 person
.
কর্নেলিয়াস ছিলেন একজন অপেশাদার রসায়নবিদ এবং শখের ফটোগ্রাফার। ছবিটি তোলার জন্য তিনি তাঁর ক্যামেরাটিকে নির্দিষ্ট জায়গায় ফোকাস করে লেন্স খুলে দেন এবং ক্যামেরা শাটার বন্ধ হওয়ার আগেই সেই ফোকাস করা জায়গায় এসে ‘পোজ’ দেন। এই ছবিটি-ই প্রথম সেলফি হিসেবে স্বীকৃত...
.
সূত্রঃ https://publicdomainreview.org/…/robert-cornelius-self-por…/
Share:

Remember Remember The Fifth of November...

Remember Remember The Fifth of November...
.
১৬০৫ খ্রিষ্টাব্দ। ব্রিটেনের রাজা তখন প্রথম কিং জেমস। প্রোটেস্ট্যান্ট আর ক্যাথলিকদের দ্বন্দ্বও তখন চরমে। জেমস প্রোটেস্ট্যান্ট ও ক্যাথলিকবিদ্বেষী হওয়ায় ইংল্যান্ডের ক্যাথলিকদের ওপর নেমে আসে অবর্ণনীয় অত্যাচার। সে অত্যাচারের বদলা নিতেই রবার্ট কেটসবি, গাই ফকসসহ অনেক ক্যাথলিক তরুণ একত্র হয়ে রচনা করে গানপাউডার প্লটের।
.
প্ল্যান করা হয় ৫ নভেম্বর হাউজ অফ লর্ডসে ইংল্যান্ডের পার্লামেন্টে রাজা উপস্থিত থাকলে পুরো পার্লামেন্ট ভবন ধসিয়ে দেয়া হবে গানপাউডার দিয়ে। আর রাজা ও প্রিন্সের মৃত্যুর পর সিংহাসনে বসবেন নয় বছরের ছোট্ট প্রিন্সেস এলিজাবেথ। সেসময় স্পেনের সাথে ব্রিটেনের একটা পিস ট্রিটিও সাইন হবার কথা ছিল। কিন্তু ক্যাথলিকদের নিরাপত্তা দেবার ধর্মিয় শপথ বারবার বাঁধা হয়ে দাঁড়াচ্ছিল স্পেনের সামনে। সে বাঁধাও টুটে যায় যখন স্প্যানিয়ার্ডদের সহযোগিতায় পুরো প্লটের খবর গোপনে জেনে যায় রাজার ঘনিষ্ঠ উইলিয়াম পার্কার।
.
একে একে ধরা পড়ে সকল বিদ্রোহীরা, কাউকে ফাঁসি দিয়ে, কারও বুক চিঁরে হত্যা করা হয়। গুলিতে মারা যান রবার্ট কেটসবি। গানপাউডারসহ ধরা পড়েন গাই ফকস। আর পৃথিবীর ইতিহাসে যুক্ত হয় আরও একটি অসফল সফল বিদ্রোহের নাম- গানপাউডার ট্রিজন প্লট।
.
রকমারি.কম এর মেইলের মাধ্যমে জানতে পারলাম ব্যাপারটা...
Share:

অবধূতের চিল গুরু


অবধুত ছিলেন চব্বিশ-গুনাতীত এক গুরুর শিষ্য। একদিন ঘুরতে ঘুরতে এলেন এক নদীর তটে। সেখানে জেলেরা মাছ ধরছিলো। হঠাৎ এক চিল এসে একটা মাছ ছোঁ মেরে নিয়ে গেলো। কিন্তু বিধি বাম, এক ঝাঁক কাক পিছু নিলো সে চিলের (চিলের না মাছের)।
.
চিল এ ডাল থেকে উড়ে সে ডালে বসে, কিন্তু কাকেরা তাকে শান্তিতে থাকতেই দেয় না। এভাবে উরাধুরা উড়তে উড়তে মাছটাই ফেলে দিলো চিল বাবাজি। কাকেরা তখন চিলের পিছে ওড়া বন্ধ করে মাছের দিকেই মনোযোগ দেয়। চিল ভাবলো, এবার শান্তি পাওয়া গেলো। মাছ ছিলো ঝামেলা ছিলো, মাছ নাই ঝামেলাও নাই।
.
পুরো ঘটনাটি অবধুত বসে বসে দেখলেন। আর মনে মনে এই চিলকেও গুরু বলে মেনে নিলেন। কারণ এইরকম মাছরূপ ব্যাপারগুলো যতক্ষণ সঙ্গে থাকবে ততক্ষণ শান্তি নাই। মনের শান্তি আগে, তারপর না মাছ খাওয়া।
.
এক মৌমাছিকেও এই অবধুত গুরু মেনেছিলেন। সেটা পরে একদিন শোনানো যাবে...

- শ্রী রামকৃষ্ণদেবের বলা গল্প হতে অনুলিপিত 
Share:

শঙ্খনীল কারাগার- হুমায়ূন আহমেদ

শঙ্খনীল কারাগার- হুমায়ূন আহমেদ

গত দেড় ঘন্টা সময় দিয়েছি। পড়া শেষ হওয়ার পর মনে হয়েছে এটা আরো আগে পড়া উচিৎ ছিলো। একটু জহির রায়হান ফ্লেভার আছে। আর মধ্যবিত্তের সাধারণ গণ্ডিবদ্ধ জীবনের কিছু ছোট ছোট অসাধারণ ঘটনা, কখনো সুখের, কখনো দুঃখের, এগুলো সব মানুষের ভেতরটা ছুঁয়ে যেতে পারে। বইটা কেমন সেটা বলা মুশকিল। যে পড়েনি সে বুঝবে না।
Share:

এঞ্জেল অব দ্য ডার্ক- শিডনি শেল্ডন

এঞ্জেল অব দ্য ডার্ক- শিডনি শেল্ডন

সিডনি শেলডনের থ্রিলার 'এঞ্জেল অব দ্য ডার্ক' পড়া শেষ করলাম। গতকাল থেকে এর পেছনে পড়ে আছি। প্রতি খণ্ডেই কাহিনি কেবল মোড় নিচ্ছিলো। সব মিলিয়ে দূর্দান্তই বলা চলে, তবে শেষ পর্যন্ত কাহিনী শেষ হলো না, রহস্যেরও শেষ হলো না। যদিও বই শেষ। যদিও কাহিনি শেষ না হওয়ায় এর থ্রিল আরো বেড়েছে বলা যায়।
Share:

Important Links

Share: