
চার্লস ডিকেন্সের 'দুই শহরের গল্প' (A Tale of two cities) পড়লাম।
.
মূলত ফরাসি বিপ্লবকে কাহিনীর প্রেক্ষাপটে আনা হয়েছে একরকম। ফ্রান্সের অভিজাত মার্কুইসরা সাধারণ মানুষের উপর সচরাচর নির্যাতন করতো, আমজনতার দুঃখ-দূর্দশা তাদের কাছে নিতান্তই তুচ্ছ। কেবল গোল বাঁধালো শেষ মার্কুইস চার্লস ডারনে। ব্যাতিক্রমী চার্লস নিজের সব জমিদারি ছেড়ে, এবং সাধারণ মানুষের খাজনা মওকুফ করে প্যারিস ছেড়ে চলে গেলো লন্ডনে।
.
ডঃ ম্যানেট এই মার্কুইসদের দ্বারা প্রতারিত হয়ে দীর্ঘ বছর বাস্তিল কারাগারে কাটিয়ে দেয়। ব্যাংকার মিঃ লরি নিরাপত্তার স্বার্থে ম্যানেটের মেয়ে লুসিকে লুকিয়ে নিয়ে যায় লন্ডনে। এবং ১৬ বছর পর এই সত্য লুসির কাছে প্রকাশ করে, এবন তাকে বলে যে তার বাবা কে সম্প্রতি ছেড়ে দেয়া হয়েছে। সুতরাং তাদের প্যারিসে গিয়ে তাকেও লন্ডনে নিয়ে আসা উচিৎ।
.
এদিকে ডঃ ম্য্যানেটকে লন্ডনে নিয়ে আসার পথে চার্লসের সাথে তাদের দেখা হওয়া, এবং চার্লসকে গুপ্তচর সন্দেহে লন্ডনের আদালতে দাঁড় করানো, সেখানে প্রায় একই রকম দেখতে সিডনি কারটনের সন্ধান। লুসির প্রতি চার্লস ও কারটনের প্রণয়, লুসি চার্লসের বিয়ে। সব মিলিয়ে বেশ ভালো একটা সময়।
.
এরপর বিপ্লবের সময় আটক হওয়া চার্লসের জমিদারির রক্ষক গ্যাবলকে বাঁচাতে গোপনে ফ্রান্সে আসা। কিন্তু তাকেও আটক করা হয় এবং কারাগারে দেয়া হয়। পরে একবার মুক্তি পেলেও, আবার তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়া হয়। কিন্তু চার্লসের পরিবর্তে শেষ পর্যন্ত কারটনের শিরচ্ছেদ করা হয়।
.
মূলত প্যারিস এবং লন্ডনের মধ্যেই এই ঘটনা-দূর্ঘটনাগুলো সংঘটিত হয়। সব মিলিয়ে দারূণ।
স্বরাজ মল্লিক


0 comments:
Post a Comment