Friday, August 10, 2018

স্বভাব-লোককাহিনী

কোন একসময় জনৈক ব্যক্তি একটি বিড়াল পুষতেন। একজন গোয়ালা তার বাসায় গরুর দুধের যোগান দিতেন। ঐ ব্যক্তির খুব আফিমের শখ ছিলো আবার। সারা দিন রাত আফিমের ঘোরেই পড়ে থাকতেন। এদিকে গরুর দুধ পাহারার দায়িত্ব ছিলো তার সেই বিড়ালটির উপর। প্রথম প্রথম কয়েকদিন বিড়ালটি তার দায়িত্ব পালন করলো সততার সাথে। গোলটা বাঁধলো কয়েকদিন পর।
.
বিড়ালের যা স্বভাব আর কি। কয়েকদিন পর বিড়ালটি এক গ্লাস দুধের এক-চতুর্থাংশ সাবাড় করে সেই পরিমাণ পানি মিশিয়ে রাখতে শুরু করলো। আফিমের নেশায় অচেতন ব্যক্তি সেটা ধরতে পারলো না। কিন্তু কিছুদিন পর বুঝতে পারলো কারচুপি হচ্ছে। এদিকে তারও বসে বসে বিড়ালের কারচুপি ধরার সময় নেই। ফলে সে প্রথম বিড়ালকে পাহারা দিতে দ্বিতীয় বিড়াল নিয়োগ করলো। প্রথম কয়েকদিন দ্বিতীয় বিড়ালটি খুব পাহারা দিলো। প্রথম বিড়াল পড়লো ঝামেলায়। কিন্তু বুদ্ধিও বের করে ফেললো। দ্বিতীয় বিড়ালটিকে বলল যে তারা দুইজনে যদি গ্লাসের অর্ধেকটা দুধ খেয়ে ফেলে তবে বাকিটা পানি মিশিয়ে দিলে কেউ কিছু টের পাবে না।
.
বিড়ালের যা স্বভাব আর কি। এরপর থেকে বিড়াল দুটি নিয়মিত গ্লাসের অর্ধেক দুধ সাবাড় করে পানি মিশিয়ে রাখতে শুরু করলো। আফিমের নেশায় অচেতন ব্যক্তি বুঝলো কারচুপি হচ্ছে কিন্তু তার সময় নেই এসব ধরার। প্রথম দুই বিড়ালকে পাহারা দেবার জন্য সে তৃতীয় বিড়াল নিয়োগ দিলো। প্রথম ও দ্বিতীয় বিড়াল বিপদে পড়লো। কিন্তু আবার বুদ্ধি বের করে ফেললো। তৃতীয় বিড়ালকেও দলে টেনে নিলো।
.
বিড়ালের যা স্বভাব আর কি। তিন বিড়ালে গ্লাসের তিন-চতুর্থাংশ দুধ খেয়ে বাকিটা পানি মিশিয়ে দিতে শুরু করলো। উপায় না দেখে চতুর্থ বিড়ালের নিয়োগ হলো। সেও বেশিদিন ভালো থাকতে পারলো না। প্রথম তিনটি বিড়াল তাকেও বুঝাতে সক্ষম হলো।
.
বিড়ালের যা স্বভাব আর কি। এরপর ৪টি বিড়াল গ্লাসের সবটুকু দুধ খেয়ে দুধের সর ওই ব্যক্তির গোঁফের উপর মাখিয়ে রাখতে শুরু করলো। আফিমের নেশায় ডুবে থাকা ব্যক্তি সব টের পেলেও তার সময় ছিলো না এসব দেখার...
.
মানুষের যা স্বভাব আর কি। মূল গল্প এখানেই শেষ হলেও প্রশ্ন থেকে গিয়েছিলো যে ৫ম বিড়াল নিয়োগ দেয়া হয়েছিলো কিনা! হয়তো না। কারণ এরপর আর গ্লাসের দুধ ভাগ করার উপায় ছিলো না। অথবা হতে পারে গোয়ালাকে এরপর থেকে দুধের যোগান দিতে নিষেধ করে দেয়া হয়েছিলো। কিংবা... নতুবা... ইত্যাদি ইত্যাদি...
.
(বিঃদ্রঃ গল্পটি নিছক লোককাহিনী। বাস্তব চরিত্রের সাথে মিল খুঁজে গল্পের সার্থকতা না তৈরী করাই ভালো।)
Share:

0 comments:

Post a Comment