Saturday, June 3, 2017

ই-গ্লাভস

ই-গ্লাভসে প্রোটোটাইপ

হেলথ এন্ড সেফটি এক্সিকিউটিভ (HSE)-এর মতে বিগত দশকে ‘ভাইব্রেশন হোয়াইট ফিঙ্গার’ ও ‘কার্পাল টানেল সিন্ড্রোম’ সমস্যায় আক্রান্ত প্রায় ১০,০০০ জন মানুষের খোঁজ পাওয়া যায়। এই দুইটি সমস্যার কারণ খুঁজতে গিয়ে জানা যায় যে যারা দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত কংক্রিট ব্রেকার, স্যান্ডার, গ্রাইন্ডার, ড্রিলিং মেশিনসহ আরো কতিপয় অত্যধিক শব্দ (বা খুব ভালোভাবে বলতে গেলে ভাইব্রেশন) উৎপাদন করে এমন যন্ত্রসমূহ ব্যবহার করেছেন তাদের ক্ষেত্রে এই দুইটি সমস্যা বেশি দেখা দেয়।
তো এই সমস্যা থেকে উত্তোরণের পথ খুঁজতে নটিংহাম ট্রেন্ট ইউনিভার্সিটির একদল গবেষক একধরনের ইলেক্ট্রনিক গ্লাভস তৈরী করেছে। এই ই-গ্লাভসের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এর ব্যবহারের ফলে নির্মাণজনিত কারণে উৎপন্ন ভাইব্রেশন থেকে নির্মাণ শ্রমিকরা রক্ষা পাবে। গ্লাভসটিতে ব্যবহার করা হয়েছে ক্ষুদ্র একধরণের সেন্সর।
বিশ্ববিদ্যালয়টির আর্ট এন্ড ডিজাইন বিভাগের অধ্যাপক তিলক ডিয়াস-এর নেতৃত্বে ‘Advanced Textiles Research Group’-এর একদল গবেষক এই গ্লাভস তৈরী করেছেন। প্রফেসর ডিয়াস বলেন,
Prolonged use of power tools can result in a variety of musculo-skeletal, neurological and vascular disorders. But by using smart textiles, it could be possible to detect with accuracy when a worker is exposed to damaging levels of vibrations and help prevent such conditions occurring in the first place.”
ভাইব্রেশন সেন্সর
 ই-গ্লাভসে ব্যবহৃত সেন্সরটি মূলত একটি ভাইব্রেশন শনাক্তকারী সেন্সর। এটি প্রায় ২ মিলিমিটার দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট। এর সাথে যুক্ত হয়েছে এক্সেলেরোমিটার। সেন্সর ও এক্সেলেরোমিটারকে একসাথে ক্যাপসুলের আকারে যুক্ত করা হয় যা পরবর্তীতে গ্লাভসের ইয়ার্নের সাথে যুক্ত করা হয়ে থাকে। গ্লাভস পরে কাজ করার সময় যখন যন্ত্রে মাত্রাতিরিক্ত ভাইব্রেশন উৎপন্ন হয় তখন সেন্সর বিপদজনক ভাইব্রেশন শনাক্ত করে শ্রমিককে সতর্ক করে দিতে সক্ষম। ফলে শ্রমিক সহজেই কাজ বন্ধ করে দিতে পারে। এতে করে ‘ভাইব্রেশন হোয়াইট ফিংগার’ বা ‘কার্পাল টানেল সিন্ড্রোম’-এর মত সমস্যাগুলোকে প্রতিহত করা সম্ভব।


সংগ্রহেঃ SwaRaz Mollick
মূল লেখাটি পড়তে পারেন এখানেঃ
Innovation in Textile
Share:

Friday, April 7, 2017

সশস্ত্র সৈনিকদের বাড়তি ওজন কমাবে ফেব্রিক- My Blog

সশস্ত্র সৈনিকদের সাথে তাদের জিপিএস, টেলিফোন, ব্যাটারি, এদের সংযোগকারী তারসহ আরো কিছু ইলেক্ট্রিক যন্ত্রপাতি থাকে। এতে করে তাদের শরীরের ওজন বেড়ে যায় অনেক যা তাদের গতিবিধির জন্য বাঁধাস্বরুপ। এই ওজন কমাতেই তারা তৈরী করেছেন সৈনিকদের জন্য বিশেষ ফেব্রিক

Share:

Thursday, April 6, 2017

মানব টিস্যূর প্রতিস্থাপনে স্মার্ট ফেব্রিক




বিভিন্ন কারণেই আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে আমাদের শরীরের যেকোন টিস্যূ ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে। সাধারণত নরম টিস্যূগুলোই বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে থাকে এসব ক্ষেত্রে। যেমন পেরিঅস্টিয়াম (Periosteum) নামক নরম টিস্যূ যা গ্রন্থিহীন হাড়সমূহকে আবৃত করে রাখে। ফলে হাড়ের শক্তি তুলনামূলক ভাবে বৃদ্ধি পায়। কিন্তু বাহ্যিক আঘাতের কারণে হাড়ের ক্ষতি না হলেও টিস্যূর ক্ষতি হতে পারে।



গবেষকেরা তাঁদের সাম্প্রতিক গবেষণায় এমন এক ধরণের Smart Fabric প্রস্তুত করেছেন যা মানবশরীরের এই পেরিঅস্টিয়াম টিস্যূর প্রায় অনুরূপ। আহত টিস্যূর পরিবর্তে মানব শরীরে এই ফেব্রিকের প্রতিস্থাপন নিয়েই তাঁরা এখন গবেষণা করে যাচ্ছেন। তাঁদের এই গবেষণা সফল হলে এই ফেব্রিক কে আহত টিস্যূর স্থানে প্রতিস্থাপন করে হাড় ও মাংসপেশীকে আরো অধিক শক্তিশালী করা সম্ভব হবে।

University of New South Wales (UNSW) এর গবেষক দলটি জানায় সাধারণ Woven Fabric এর মতই এই ফেব্রিকটি প্রস্তুত করা হয়েছে। সাধারণত মানব টিস্যূর মূল উপাদান কোলাজেন (Collagen), ইলাস্টিন (Elastin) এবং অন্যান্য গাঠনিক প্রোটিন (Structural proteins)। কিন্তু কোলাজেন এবং ইলাস্টিন স্পিনিং এর জন্য খুবই অনুপযুক্ত। ফলে গবেষকেরা ফেব্রিকটি তৈরীতে কোলাজেন তন্তুর পরিবর্তে সিল্ক এবং ইলাস্টিনের পরিবর্তে কৃত্রিম স্থিতিস্থাপক উপাদান ব্যবহার করেছেন। এই উপাদানসমূহকে ত্রিমাত্রিক বিন্যাসে বিন্যস্ত করেই গঠিত হয়েছে স্মার্ট ফেব্রিকটি যা অধিক শক্তিশালী, স্থিতিস্থাপক এবং আরো কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য সমৃদ্ধ।


এই ফেব্রিকটি তৈরী করতে গবেষকগণ প্রথমে ত্রিমাত্রিক প্রযুক্তির মাধ্যমে মানব টিস্যূর একটি ত্রিমাত্রিক নকশা বের করে তার ভেতর কি কি উপাদান আছে সেগুলো চিহ্নিত করেছেন এবং পরবর্তীতে এর অনুরূপে স্মার্ট ফেব্রিকটির একটি প্রোটোটাইপ তৈরী করেছেন। এরপর ক্যাড (CAD) প্রযুক্তির মাধ্যমে পরীক্ষা করা হয়েছে যে ফেব্রিকটি আসলেই পেরিঅস্টিয়ামের মত বিন্যস্ত কিনা। গবেষক দলটির পরবর্তী লক্ষ্য আরো গবেষণার মাধ্যমে এই প্রোটোটাইপকে উন্নত করা এবং আহত টিস্যূর স্থানে একে প্রতিস্থাপন করা।

(Innovation In Textile অবলম্বনে) 

সংগ্রহেঃ SwaRaz Mollick
Share:

Monday, April 3, 2017

মৌলিক সংখ্যার সর্পিল বিন্যাস (Prime Spirals)



মৌলিক সংখ্যা ( Prime Number) বলতে সেই সকল সংখ্যাগুলোকে বোঝায় যারা কেবল মাত্র ১ ও সেই সংখ্যা দ্বারাই বিভাজ্য। সংখ্যা জগতের অপর সকল সংখ্যাই এই মৌলিক সংখ্যাগুলোর গুণ করার মাধ্যমে পাওয়া যায়। অর্থাৎ মৌলিক সংখ্যাসমূহকে সংখ্যা ব্যবস্থার পরমাণু হিসেবে ধরে নেয়া যেতে পারে। যদিও সংখ্যা ব্যবস্থায় তাদের ভূমিকা অনন্য, কিন্তু পূর্ণসংখ্যার মধ্যে তাদের সঠিক কোনো বিন্যাস বা তাদের অবস্থান নির্ণয়ের কোনো সূত্র পাওয়া যায় না। সহজ করে বলতে গেলে কোন সংখ্যার পর কোন সংখ্যা মৌলিক হবে তা হিসাব করে বলা অসম্ভব। 

Stanislaw Ulam

১৯৬৩ সালে গণিতবিদ ঊলাম (Stanislaw Ulam) তাঁর নোটবুকে সংখ্যা নিয়ে বিক্ষিপ্তভাবে লেখালেখি করার সময় লক্ষ্য করেন যে যদি পূর্ণসংখ্যাগুলোকে চতুর্ভূজের অনুরূপে সর্পিলাকারে সাজানো যায় তবে মৌলিক সংখ্যাগুলো এই বিন্যাসের কর্ণ বা কৌনিক রেখা বরাবর বিন্যস্ত হয়। যদিও তাঁর মতে এখানে অবাক হওয়ার কিছু নাই কারণ ২ বাদে সকল মৌলিক সংখ্যাই বিজোড় এবং এই সর্পিল বিন্যাসে জোড় সংখ্যা ও বিজোড় সংখ্যা একের পর এক কর্ণ বরাবর থাকে। অর্থাৎ প্রথম কৌনিক রেখা জোড় সংখ্যার হলে পরে কৌনিক রেখা বিজোড় সংখ্যার হবে। কিন্তু চমকপ্রদ ব্যাপার হচ্ছে এই বিন্যাসে কয়েকটি কৌণিক রেখায় প্রায় পরপরই মৌলিক সংখ্যাগুলো বিন্যস্ত থাকে। তবে এই বিন্যাসেরও সঠিক কোনো গাণিতিক ব্যাখ্যা নেই।



 খুব বড় পরিসরে সংখ্যাগুলোকে অনুরূপ সর্পিলাকারে সাজালে উপরের চিত্রের মত দেখা যায়।

(LiveScience অবলম্বনে সংকলিত)
  সংগ্রহেঃ SwaRaz Mollick
Share:

Monday, March 27, 2017

Knitted Muscles: যা প্রতিবন্ধীদের জন্য সহায়ক





 কৃত্রিম পেশী তৈরীতে টেকনিক্যাল টেক্সটাইল এর অবদান সুদূরপ্রসারী। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি গবেষকরা নতুন ধরনের টেক্সটাইল ফেব্রিক তৈরী করেছে। ‘সায়েন্স ডেইলি’ (Science Daily)-র রিপোর্ট অনুযায়ী সম্প্রতি সুইডেনের  লিনকোপিং বিশ্ববিদ্যালয় (Linköping University) এবং বোরাস বিশ্ববিদ্যালয় (University of Borås) এর গবেষকেরা সাধারন ফেব্রিকের উভয় পাশে ইলেক্ট্রোএক্টিভ পদার্থ (Electro-active material) এর আস্তরণ দিয়ে নতুন ধরনের একটি কম্পোজিট ফেব্রিক প্রস্তুত করেছে যা পেশীতন্তুর মতই সক্রিয় হতে পারে এবং গবেষকদের মতে এই ফেব্রিক পরবর্তীতে শারীরিক সমস্যাজনিত মানুষের জন্য হিতকর হবে।


বর্তমানে কৃত্রিম পা (prostheses) এবং রোবট প্রযুক্তির ক্রমশ উন্নয়ন লক্ষ্যণীয়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় এক্সোস্কেলেটন (Exoskeleton) এর কথা। এটি একটি কঠিন আবরণ বিশেষ যা আবার কৃত্রিম পেশী দ্বারা আবৃত করা হয়। এক্সোস্কেলেটন ব্যবহারের ফলে কোনো মানুষের গতিবিধি বা তৎপরতা বা সক্রিয়তা বৃদ্ধি পায়।

লিনকোপিং বিশ্ববিদ্যালয়ের Division of Sensor and Actuator Systems এর সহযোগী অধ্যাপক এডুইন জ্যাগার (Edwin Jager) বলেন যে সাম্প্রতিক সময়ে কৃত্রিম পেশী ব্যবহার করে এক্সোস্কেলেটনের প্রভূত উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে যার ফলে সেটা চলাচলে অক্ষম ব্যক্তিদের জন্য সুফল বয়ে আনবে। উল্লেখ্য যে কৃত্রিম পেশী ব্যবহারের আগে এক্সোস্কেলেটন দৃঢ় কাঠামো হিসেবে রোবট প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত হত। গবেষকরা এখন এই এক্সোস্কেলেটনকে আঁট পোশাকের (বা Running tight) মত করে তৈরী করতে চেষ্টা করছেন যা সাধারণ পোশাকের নিচে পরা যাবে। এর ফলে খেলোয়াড় বা বৃদ্ধ ব্যক্তি বা যারা কোনো কারণে শারীরিকভাবে অক্ষম অথবা শারীরিক প্রতিবন্ধীদের  চলাচলের কষ্ট কিছুটা লাঘব করা সম্ভব হবে বলে গবেষকরা মনে করছেন।

প্রথম দিকের এক্সোস্কেলেটনগুলো পরিচালিত হত ইলেক্ট্রিক মোটর বা বায়ুচাপ দ্বারা। শক্তি উৎপাদনও হতো একই প্রকারে। এখন গবেষকেরা সাধারণ ফেব্রিকের উপর ইলেক্ট্রোএক্টিভ পদার্থের আস্তরণ দিয়ে নতুন ধরণের ফেব্রিক তৈরী করছে যা হবে কৃত্রিম পেশীর শক্তির উৎস। ফেব্রিকের উপর নিম্নমাত্রার ভোল্টেজ প্রয়োগ করলে ইলেক্ট্রোএক্টিভ পদার্থ এর আয়তন পরিবর্তন করতে পারে যার ফলে ফেব্রিকের ভেতর ব্যবহৃত ফাইবার বা ইয়ার্ন দৈর্ঘ্যে বৃদ্ধি পাবেতবে ফেব্রিকের প্রসারিত হওয়ার ক্ষমতা বা পেশীর টান সহ্য করার ক্ষমতা তাদের প্রকৃতির উপর নির্ভর করে। যদি পেশীর টান ফেব্রিকের প্রতিটি সুতার সহনীয় সর্বোচ্চ টানের বেশী হয়ে যায় তখন ফেব্রিক ছিড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকেএক্ষেত্রে সাধারণত অত্যন্ত প্রসারণশীল নিট ফেব্রিক (Extremely Stretchable Knitted Structure) ব্যবহার করা হয় যেন অতিরিক্ত প্রসারণ সহ্য করতে পারে। কারণ নিট ফেব্রিকের প্রসারিত হওয়ার ক্ষমতা অন্যান্য ফেব্রিকের থেকে অনেক বেশী।

মূলত গবেষকরা রোবট প্রযুক্তিতে ব্যবহারের জন্য এই ধরণের ফেব্রিক তৈরী করেছে যা মধ্যম ওজনের কোন বস্তু তুলতে রোবটের পেশী হিসেবে কাজ করবে। কিন্তু তাঁরা এখন একে আরো উন্নত করার চেষ্টা করছেন যা হাঁটাচলায় অক্ষম বা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য নতুন দিনের সূচনা করতে পারে।

তথ্যসূত্রঃ

সংগ্রহ ও সংকলন: SwaRaz Mollick
Share:

Sunday, March 26, 2017

ইলেক্ট্রিক টুপি


 শীতের সময় অ্যাথলেটদের চেস্ট ইনফেকশন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে অনেক এই সমস্যা দূর করতে সম্প্রতি নটিংহাম ট্রেন্ট ইউনিভার্সিটি (Nottingham Trent University) জার্মানভিত্তিক আধুনিক নিটিং মেশিন প্রস্তুতকারক স্টোল (Stoll) একধরনের ইলেক্ট্রিক মাস্ক (Balaclava; আভিধানিক বাংলায়বাঁদর টুপি’) এর প্রোটোটাইপ তৈরী করেছে যা শ্বাস গ্রহণের পূর্বে অক্সিজেন কে উষ্ণ করতে পারবে ফলে ঠাণ্ডা বায়ু সেবনে তাদের ইনফেকশন হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে অনেক কম ত্রিমাত্রিক নিট ফেব্রিকের তৈরী এই মাস্ক সাধারণ ফেব্রিকের মতই ধৌতযোগ্য
 
ব্যবহৃত প্রযুক্তি
নাক মুখের ওপর মাস্কে যে অংশ থাকে সেখানে তড়িৎ পরিবাহী সুতা (Conductive Yarn) ব্যবহার করা হয়
এবং ইলেক্ট্রিসিটি প্রবাহের ফলে এটি তাপ নির্গমন করে। মাস্কের পেছন দিকে রিচার্জেবল সেল ব্যাটারি (Rechargeable Cell Battery) থেকে এই শক্তি পাওয়া যায়



সংগ্রহেঃ  SwaRaz Mollick

Source:

http://www.innovationintextiles.com/electric-balaclava-to-avert-chest-infections-in-cold-weather/

Share: