Thursday, April 6, 2017

মানব টিস্যূর প্রতিস্থাপনে স্মার্ট ফেব্রিক




বিভিন্ন কারণেই আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে আমাদের শরীরের যেকোন টিস্যূ ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে। সাধারণত নরম টিস্যূগুলোই বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে থাকে এসব ক্ষেত্রে। যেমন পেরিঅস্টিয়াম (Periosteum) নামক নরম টিস্যূ যা গ্রন্থিহীন হাড়সমূহকে আবৃত করে রাখে। ফলে হাড়ের শক্তি তুলনামূলক ভাবে বৃদ্ধি পায়। কিন্তু বাহ্যিক আঘাতের কারণে হাড়ের ক্ষতি না হলেও টিস্যূর ক্ষতি হতে পারে।



গবেষকেরা তাঁদের সাম্প্রতিক গবেষণায় এমন এক ধরণের Smart Fabric প্রস্তুত করেছেন যা মানবশরীরের এই পেরিঅস্টিয়াম টিস্যূর প্রায় অনুরূপ। আহত টিস্যূর পরিবর্তে মানব শরীরে এই ফেব্রিকের প্রতিস্থাপন নিয়েই তাঁরা এখন গবেষণা করে যাচ্ছেন। তাঁদের এই গবেষণা সফল হলে এই ফেব্রিক কে আহত টিস্যূর স্থানে প্রতিস্থাপন করে হাড় ও মাংসপেশীকে আরো অধিক শক্তিশালী করা সম্ভব হবে।

University of New South Wales (UNSW) এর গবেষক দলটি জানায় সাধারণ Woven Fabric এর মতই এই ফেব্রিকটি প্রস্তুত করা হয়েছে। সাধারণত মানব টিস্যূর মূল উপাদান কোলাজেন (Collagen), ইলাস্টিন (Elastin) এবং অন্যান্য গাঠনিক প্রোটিন (Structural proteins)। কিন্তু কোলাজেন এবং ইলাস্টিন স্পিনিং এর জন্য খুবই অনুপযুক্ত। ফলে গবেষকেরা ফেব্রিকটি তৈরীতে কোলাজেন তন্তুর পরিবর্তে সিল্ক এবং ইলাস্টিনের পরিবর্তে কৃত্রিম স্থিতিস্থাপক উপাদান ব্যবহার করেছেন। এই উপাদানসমূহকে ত্রিমাত্রিক বিন্যাসে বিন্যস্ত করেই গঠিত হয়েছে স্মার্ট ফেব্রিকটি যা অধিক শক্তিশালী, স্থিতিস্থাপক এবং আরো কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য সমৃদ্ধ।


এই ফেব্রিকটি তৈরী করতে গবেষকগণ প্রথমে ত্রিমাত্রিক প্রযুক্তির মাধ্যমে মানব টিস্যূর একটি ত্রিমাত্রিক নকশা বের করে তার ভেতর কি কি উপাদান আছে সেগুলো চিহ্নিত করেছেন এবং পরবর্তীতে এর অনুরূপে স্মার্ট ফেব্রিকটির একটি প্রোটোটাইপ তৈরী করেছেন। এরপর ক্যাড (CAD) প্রযুক্তির মাধ্যমে পরীক্ষা করা হয়েছে যে ফেব্রিকটি আসলেই পেরিঅস্টিয়ামের মত বিন্যস্ত কিনা। গবেষক দলটির পরবর্তী লক্ষ্য আরো গবেষণার মাধ্যমে এই প্রোটোটাইপকে উন্নত করা এবং আহত টিস্যূর স্থানে একে প্রতিস্থাপন করা।

(Innovation In Textile অবলম্বনে) 

সংগ্রহেঃ SwaRaz Mollick
Share:

0 comments:

Post a Comment