
সাপ-খোঁপের আড্ডায় বটগাছের নিচে বজ্রপাতে হারুর মৃত্যু, মৃত হারুকে শশীর আবিষ্কার করে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া, হারুর পরিবারের দেখাশোনার স্ব-সিদ্ধান্ত, শশীর বাবা গোপালের সাথে শশীর আজীবনের মতের অনৈক্য, শশীর প্রতি পরাণের বউ কুসুম-এর ৮-৯ বছরের আকর্ষণ, কিন্তু অবশেষে শশীকে ছেড়ে পরাণকে নিয়ে চিরদিনের জন্য বাপের বাড়ি চলে যাওয়া, নন্দলালের সাথে বিন্দুর বিয়ে, বিন্দুর প্রতি নন্দর নির্যাতন, কিন্তু শেষপর্যন্ত এই নির্যাতনের লোভেই আবার ফিরে যাওয়া নন্দর কাছে, যাযাবর ও ছন্নছাড়া (তবে ভালো যাত্রাশিল্পী) কুমুদের সাথে পরাণের বোন মতির প্রেম, তারপর তাদের অসমবয়সী বিয়ে, কুমুদের সাথে থেকে গ্রাম্য মতির অদ্ভুত পরিবর্তন, কুমুদের প্রতি বনবিহারী বাবুর স্ত্রী জয়ার আকর্ষণ এবং শেষে অস্থিতি, কুমুদের ভবঘুরে স্বভাব, নিজ কথার মান বাঁচাতে যাদব পণ্ডিতের সস্ত্রীক মৃত্যু, যামিনী কবিরাজ ও তার স্ত্রী (শশীর কাছে যে সেনদিদি), কুসুমের সাথে শশীর তালবনে দেখা করা, কুসুমের অনুপস্থিতিতে শশীর বিরহ, ছেলেকে ভোলাতে ও বশ করতে গোপালের নানা ব্যার্থ প্রয়াস। শেষ পর্যন্ত গোপালের কাশীযাত্রা, শহরে যেতে মনস্থির করা শশীর আজীবনের জন্য গ্রামেই থেকে যাওয়া... ইত্যাদি
.
পড়তে গিয়ে যেটা বুঝলাম যে এই উপন্যাসটি ভাঙলেই ২-৩ টি উপন্যাস পাওয়া যেতো। শুরু করে শেষ না করা অবধি কাহিনী মেটে নাই। পড়তে পড়তে 'এর পর কি হবে?' টাইপের প্রশ্ন সব সময় মাথায় থাকবে। মাঝে মাঝে কিছু হতে গিয়েও হয় না। হয়েছে তার উল্টোটা। কেবল শেষ পর্যন্ত শশীর কপালে কোনোটিই সহ্য হইলো না, নাহ কুসুমের প্রেম, না পিতৃস্নেহ আর না নিজ ইচ্ছামতে শহরে যাওয়া। অথচ দায়িত্ব বেড়ে গেলো তার অনেকগুণ... বস্তুত লোভ-লালসা, প্রেম-পরিণয়-প্রতারণা, পাপ-পূণ্যে ভরা প্রায় অন্ধকার গ্রামকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই উপন্যাসে সেই একটি কথাই এসে গেছে যে বাস্তবে স্থির ও স্থায়ী কিছু নেই। লেখকের শ্রেষ্ঠ লেখা এইটিই।।
.
#পুতুলনাচের_ইতিকথা
#মানিক_বন্দ্যোপাধ্যায় এতো বড় করে উপন্যাস লেখার সময় পেয়েছিলো কোথায় সেটাই আমার প্রশ্ন...
Swaraz Mollick


0 comments:
Post a Comment