ফেব্রুয়ারিতে ইন্টার্নি করছিলাম সাভারের একটা ইন্ডাস্ট্রিতে। মেজর সাবজেক্ট ওয়েট
প্রসেসিং হওয়ায় প্রথম এক সপ্তাহ ব্যাচ সেকশন-ল্যাব-ড্যায়িং ফ্লোরে ছিলাম। অর্থাৎ, মেজরের
প্রায়োরিটি আগে। এরপর গিয়েছিলাম নিটিং সেকশনে। যদিও ফ্লাইং ডাস্টের কারণে সেখানে ঘোরাফেরা
করা মুশকিল, অর্থাৎ ভদ্রবেশে সেখানে যাওয়া খানিকটা বোকামি। যাবেন ভদ্রবেশে, আসবেন পাগল
হয়ে, সারা গায়ে-মাথায় ডাস্ট নিয়ে। তো যাইহোক, লেখার উদ্দেশ্য সেসব নিয়ে আলোচনা করা
নয়। উদ্দেশ্য হচ্ছে নিটিং-এর প্রোডাকশন বের করা যায় কীভাবে?
বলতে পারেন যে, নিটিং-এর প্রোডাকশন বের করার সূত্র তো বইতে দেয়া আছে। আমি
নিজেও জানি বইতে ফর্মুলা দেয়া আছে এবং আমরা সেটা খানিকটা না বুঝে মুখস্ত করে ফেলি। সূত্রটি প্রথম দেখায়
আপনার মনে ভালোলাগার অনুভূতি তৈরী করবে না সেটা আমি নির্দ্বিধায় বলে দিতে পারি। আবার
না বুঝে মুখস্ত করার কারণে একসময় দেখা যাবে সেটি ভুলেও যাবেন। অথচ আপনি যদি সূত্রটি
একবার বুঝে নিতে পারেন, সেটা হয়ে যাবে পানির মত সোজা এবং যেকোনো সময় আপনি সূত্র মুখস্ত করা ছাড়াই প্রোডাকশন বের করে ফেলতে পারবেন। আমার লেখার উদ্দেশ্যই হচ্ছে এই
আপাতদৃষ্টিতে জটিলরূপী সরল সূত্রকে প্রকৃত সরল করে দেয়া। সুতরাং, শুরু করা যাক।
আমি সোজা বইয়ের সূত্রকে বিশ্লেষণ না করে বরং চেষ্টা করবো ধাপে ধাপে সূত্রে
পৌঁছাতে।
ধরা যাক, সার্কুলার নিটিং মেশিনের প্রোডাকশন বের করতে হবে প্রতি ঘন্টায়।
তো সার্কুলার নিটিং মেশিন ঘুরতে থাকে এবং লুপ তৈরীর মাধ্যমে ফেব্রিক তৈরী হয়। কাজেই
প্রথমে একবার ঘুরে আসলে প্রোডাকশন কত হবে?
প্রথমে একটি ইয়ার্ন নিয়ে হিসেবে করা যাক। একবার মেশিন ঘুরলে একটি ইয়ার্নে
N (= ПDG) সংখ্যক লুপ তৈরী হয় যাদের লুপের দৈর্ঘ্য
(Stitch length) S মিমি.। সুতরাং মেশিন একবার ঘুরলে (N×S) মিমি. দৈর্ঘ্যের একটি কোর্স (Course) তৈরী হবে। এখন মেশিনে একটি ইয়ার্ন অবশ্যই নেই। প্রতিবার ঘোরার ফলে মেশিনে
যতগুলো ফিডার (F = MD, M= Multiple number) আছে ততগুলো কোর্স তৈরী হয়। অর্থাৎ, একবার
ঘুরলে (N×S×F) মিমি. দৈর্ঘ্যের ইয়ার্নের ফেব্রিক তৈরী হয়।
এবার মেশিনের একটা নির্দিষ্ট RPM আছে। RPM মানে Revolution per minute, অর্থাৎ
প্রতি মিনিটে মেশিন যতবার ঘোরে। সেক্ষেত্রে মেশিন একবার ঘুরলে যদি NSF মিমি. দৈর্ঘ্যের ইয়ার্নের ফেব্রিক পাওয়া যায়, তাহলে প্রতি মিনিটে পাওয়া যাবে (RPM×N×S×F) মিমি. দৈর্ঘ্যের ফেব্রিক।
প্রতি মিনিটে পাওয়া গেলে অবশ্যই এবার ৬০ দিয়ে গুণ করে প্রতি ঘন্টা এবং ৮ (বা ১২) দিয়ে গুণ করে প্রতি
শিফটের প্রোডাকশন বের করা যাবে। আবার যেহেতু এখানে দৈর্ঘ্য মিলিমিটারে, কাজেই ১০০০
দিয়ে ভাগ করে মিটারে কনভার্ট করা যাচ্ছে সহজে।
কিন্তু ইন্ডাস্ট্রিতে সাধারণত প্রোডাকশন হিসেব করা হয় কেজিতে (KG)। কাজেই আমাদের
এই মিটারকে কেজিতে কনভার্ট করা লাগবে। অসম্ভব লাগছে নাকি? দৈর্ঘ্যের একক মিটার আর ভরের
একক কেজি, আবার দুইটিই আলাদা রাশি। তাহলে এটা কীভাবে সম্ভব?
এখানেই আমাদের লাগবে ইয়ার্ন কাউন্ট (Count)। কটনের ক্ষেত্রে Indirect
count হিসেব করা হয়। তো Indirect count এর অর্থ 840 গজের (Yard) এক পাউন্ড (lb) ওজনের
যতগুলো হ্যাংক তৈরী করা যায়। অর্থাৎ ফর্মুলা মতে,
এবার আমাদের কাজ হবে মিটারকে ইয়ার্ডে কনভার্ট করা।
1 Yd = 3 feet
= 36 inch (As
1 foot = 12 inch)
= 36×2.54 cm (As
1 inch = 2.54 cm)
= (36×2.54)/100 m (As 1 m = 100 cm)
Or 1 m = 100/(36×2.54) yd
সুতরাং, আমাদের সূত্রকে এবার একটু লিখে ফেলার দরকার আছে।
এবার কাউন্টের সূত্রের সাহায্যে এইসূত্র থেকে প্রোডাকশনকে ভরে কনভার্ট
করা সহজ হয়ে গেলো। অর্থাৎ,
এখন
আমরা জানি 1 KG = 2.2046 lb, সুতরাং, 2.2046 দিয়ে পূর্বের ফর্মূলা-কে ভাগ করলেই কেজি-তে
প্রোডাকশন পাওয়া যাবে।
এবং সর্বশেষ এফিসিয়েন্সি গুণ করলেই প্রতি শিফটের প্রকৃত প্রোডাকশন বের হয়ে
যাবে,
এটাই
আমাদের সেই কাংক্ষিত প্রোডাকশন ফর্মুলা। এবার আবার একটু রিভিউ করা যাক
প্রথম
স্টেপে একবার রেভোলিউশনের কারণে একটি কোর্সের হিসেব করতে হবে, এরপর সবগুলো কোর্সের
হিসেব।
পরের
স্টেপে প্রতি মিনিটের হিসেব। সেখান থেকে প্রতি ঘন্টা এবং প্রতি শিফট (এভাবে চাইলে প্রতি সপ্তাহ,
মাস, বছর)
এরপরের
স্টেপ থেকে শুধু কনভার্সন। মিলিমিটার থেকে মিটার, মিটার থেকে ইয়ার্ড, ইয়ার্ড থেকে কাউন্টের
ফর্মূলা দিয়ে পাউন্ড, পাউন্ড থেকে কেজি।
...
...
BSc in Textile Engineering
Khulna University of Engineering & Technology (KUET)








ভাই আপনি উপরে 100 গুন করেছেন এটা কেন করলেন বুঝলাম না। কাইন্ডলি একটু বুঝিয়ে দেবেন
ReplyDelete1 m= 100 cm
Deleteভাই আপনাকে অনেক ধন্যবাদ
ReplyDelete1.0936/60/1000/840/এ গুলো কি বুঝায়
ReplyDeletevai Counter bar korbo kivabe ektu nole den
ReplyDeleteAshshalamualycum. N= Yarn Count বুঝাইছেন কি ?
ReplyDelete